যেভাবে নিজ স্ত্রী পারভীনের জিহ্ববা কেটে নিয়েছিল ‘বোমা লিপু’ ….

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: বোমা লিপু তার ভাগিনা জহিরকে একটি প্লাস আনতে বলে। ভাগিনা জহির প্লাস নিয়ে আসার পর লিপু একটি ধারালো কেঁচি তার হাতে নেয়। এরপর লিপু তার স্ত্রী’র জীহ্বা টেনে বের করে ভাগিনার হাতে থাকা প্লাসে ধরিয়ে দেয়। পরে লিপু নিজের হাতে স্ত্রী’র জিহ্বার একটি অংশ কেটে নিজের হাতে নেয়। এসময় ডাকাত ,শাহীন,শুক্কুর আলী ও শেফালী একত্রিত হয়ে পারভিনের হাত পা চেপে ধরে । এক পর্যায়ে তারা পাথর দিয়ে পারভিনের পায়ে আঘাত করে পা ভেঙ্গে দেয়। এতে মারাত্মক আহত হয়ে পড়ে পারভীন। পরে আত্মীয় স্বজনররা ঘটনা শুনে পারভিনকে উদ্ধার করে খানপুর ৩’শ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অস্ত্র, মাদক,নারী নির্যাতন,হত্যার চেষ্টা,ডাকাতিসহ এমন কোন অপরাধ আছে যা নেই তার বিরুদ্ধে ? হ্যা, ফতুল্লা রেলস্টেশনের আতঙ্ক মাদক সম্রাট ডাকাত বোমা লিপু প্রসঙ্গ উঠতেই এলাকাবাসী ও প্রশাসনের মনে এ প্রশ্ন। নিহত লিপু পিলকুনি এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে। তার পুরো পরিবারই মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হিসাবে এলাকায় পরিচিত।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রেরিত তথ্য থেকে জানা গেছে গত ৭ বছরে সহ অন্যান্য মামলা নিয়ে মোট ১৫ টি ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগে মামলার আসামি। এর মধ্যে সবচেয়ে ভযাবহ ঘটনা ছিল কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে নিজ স্ত্রী পারভীনের জিহ্ববা কেটে ফেলার অভিযোগ। লিপুর স্ত্রী পারভীনও একজন মাদক ব্যবসায়ী।

ঘটনাটি ছিল যে রকম:

বাদীর অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দাপা ইদ্রাকপুরের পিলকুনি জোড়া মসজিদ এলাকার শহীদ জমাদ্দানের মেয়ে পারভিনের সাথে ১৫ বছর আগে পাশবর্তী মহল্লা রেল ষ্টেশন ব্যাংক কলোনী এলাকার লিপু ওরফে বোমা লিপুর সাথে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তাদের সংসারে স্বাধীন (১৪) ও রিয়া (১০) নামের দুটি সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে স্বামী লিপুসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে পারভিনের উপর নির্যাতন করতে শুরু করে। কিন্তু পারভীনের হত দরিদ্র পরিবারের পক্ষে লিপুর পরিবারের চাওয়া ৫ লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার সামর্থ নেই।

২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১ টার দিকে উপরোল্লিখিত সকল আসামী মিলে পারভিনের উপর হামলা করে। এক পর্যায়ে স্বামী লিপু তার ভাগিনা জহিরকে একটি প্লাস আনতে বলে। ভাগিনা জহির প্লাস নিয়ে আসার পর লিপু একটি ধারালো কেঁচি তার হাতে নেয়। এরপর লিপু তার স্ত্রী’র জীহ্বা টেনে বের করে ভাগিনার হাতে থাকা প্লাসে ধরিয়ে দেয়। পরে লিপু নিজের হাতে স্ত্রী’র জিহ্বার একটি অংশ কেটে নিজের হাতে নেয়। এসময় ডাকাত ,শাহীন,শুক্কুর আলী ও শেফালী একত্রিত হয়ে পারভিনের হাত পা চেপে ধরে । এক পর্যায়ে তারা পাথর দিয়ে পারভিনের পায়ে আঘাত করে পা ভেঙ্গে দেয়। এতে মারাত্মক আহত হয়ে পড়ে পারভীন। পরে আত্মীয় স্বজনররা ঘটনা শুনে পারভিনকে উদ্ধার করে খানপুর ৩’শ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্যনুযায়ী পারভিন ও লিপু দু’জনই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। পারভিনকে সবাই হেরোইন সম্রাজ্ঞী হিসেবে চেনে। একািধিকবার হোরোইন’সহ গ্রেফতার করে কারাবরন করেছিলেন তিনি। অপরদিকে তার স্বামী লিপুও এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত। তার বিরুদ্ধে একই থানায় একাধিক মাদক ও ডাকাতি মামলা রয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানায়, প্রায় বছর ৩/৪ আগে লিপু একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবরন করে। যার ফলে সংসার ও স্বামীর মামলা পরিচালনার খরচ যোগাতে হিমশিম খায় পারভীন। পরে পরিবারের অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে এলাকায় হেরোইন ব্যবসা শুরু করে সে।

এক পর্যায়ে গুঞ্জন ওঠে কারাগারে থাকা তার স্বামী লিপুকে সে বিভিন্ন কৌশলে হেরোইন সাপ্লাই দেয়। এছাড়া এলাকাতেও সে দিনে দিনে বড় মাপের হেরোইন ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে। যার ফলে তার নাম পারভিন থেকে হেরোইন পারভিন ওরফে হেরোইন সম্রাঙ্গী পারভিন হয়ে ওঠে। এরই এক পর্যায়ে কারাগারে থাকা স্বামীকে ফেলে জনুদ্দিন জনু নামে অন্য আরেক মাদক ব্যবসায়ীর সাথে ঘর সংসার শুরু করে পারভিন। তার কিছু দিনের মাথায় কারাগার থেকে জামিনে লিপু বেরিয়ে এসে সহযোগীদের নিয়ে স্ত্রী’র নতুন স্বামী জনুদ্দিন জনুকে বেদম প্রহার করে। ওই ঘটনায় জনু বাদী হয়ে লিপু ও তার বড় ভাই শাহীন’সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে থানায় মামলায় দায়ের করেন।

বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে,পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধী হলেও কয়েকদফা গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও মাদক সন্ত্রাসসহ অপরাধে জড়িয়ে পড়তো মাদক সম্রাট বোমা লিপু। এভাবেই সে ১৩মামলার আসামী হওয়ায় বিগত পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের আমলে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশ হলে তাতে বোমা লিপুর ছবিসহ পোষ্টার প্রচারিত হয়। তাতে তাকে ধরে মেয়ার জন্যে ৫ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষনা করা হয়। পোষ্টারে তার স্ত্রী পারভীনের ছবিও প্রকাশিত হয়। তাকে ধরিয়ে দিতে পাররে ১০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষনা হয়েছে।

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাত ৩টার দিকে ফতুল্লার দাপা বালুর মাঠ এলাকায়  গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সঙ্গে কথিত ‘বন্ধুকযুদ্ধে’  নিহত হয় বোমা লিপু । এ সময় ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৪ সদস্য আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।