উইলিয়ামসনের ক্যাপ্টেন্স নক সেঞ্চুরিতে জয় পেলো নিউজিল্যান্ডই

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ):   শেষ ওভারে ৬ বলে ৮ রানের সমীকরনে কিছুটা উত্তাপও ছড়ালেও  উইলিয়ামসনের ক্যাপ্টেন্স নক সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে জয়ের হাসিতে মাঠ ছেড়েছে নিউজিল্যান্ডই।

এজবাস্টনে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টিতে এক ওভার কমে আসা ম্যাচে টেনেটুনে ৬ উইকেটে ২৪১ পর্যন্ত যায় সাউথ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে অধিনায়ক উইলিয়ামসনের অপরাজিত ১০৬ রানে ৩ বল হাতে রেখেই জয়ে নোঙর ফেলেছে নিউজিল্যান্ড।

এই জয়ে সেমিফাইনাল অনেকটাই ধরাছোঁয়ার মধ্যে চলে এলো কিউইদের। ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেবিলের শীর্ষে গত আসরের রানার্সআপরা। আর ৬ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আটে প্রোটিয়ারা। হাতে তিন ম্যাচ, ডু প্লেসিসের দল সবগুলো জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি দলগুলোর হিসাব-কিতাবের দিকে। এটা অবশ্য ক্রিকেটের গৌরবময় অনিশ্চয়তার সূত্র মেলানোর মতো কথা! একটু সাহস করে বলেই দেয়া যায়, ম্যাচ তো বটেই, উইলিয়ামসন সাউথ আফ্রিকার সেমির শেষ আশাটুকুও কার্যত বিলীন করে দিয়েছেন!

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তৃতীয় ওভারেই কলিন মুনরোকে (৯) নিজের ক্যাচ বানিয়ে আশার পালে হাওয়া দেন কাগিসো রাবাদা। কিউইদের রান তখন সবে ১২। সেখান থেকে মার্টিন গাপটিল ও অধিনায়ক উইলিয়ামসনের ৬০ রানের জুটি আবারও হতাশার গর্তে ঠেলে দেয় প্লেসিসদের।

ম্যাচের ১৫তম ওভারে ফেলুকোয়ওর বলে হিট উইকেট হয়ে গাপটিল ৩৫ রানে ফিরলেও তখন পর্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে কিউইরাই।

সেখান থেকে সাউথ আফ্রিকাকে জাগিয়ে তোলেন ক্রিস মরিস। পরপর দুই ওভারে রস টেলর (১) ও টম ল্যাথামকে (১) কুইন্টন ডি ককের ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করেন এ অলরাউন্ডার।

সেই চেষ্টা সফল হয়নি। দল বিপদে পড়লেও একপ্রান্ত আগলে উইলিয়ামসন ত্রাতা হন। শুরুতে সঙ্গী পান জিমি নিশামকে (২৩), দুজনের জুটি ৫৭ রানে।

তবে পরের জুটিটা সবচেয়ে স্বস্তির নিউজিল্যান্ডের জন্য। ডি গ্র্যান্ডহোমকে নিয়ে ম্যাচজয়ী যে জুটিতে ৯১ রান যোগ করেন উইলিয়ামসন। গ্র্যান্ডহোম ৪৭ বলে ৬০ রানে যখন ফেরে, জয় কেবল সময়ের ব্যাপার! ৫ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংস তার।

উইলিয়ামসন অবশ্য শেষ করেই ফিরেছেন। ১৩৮ বলের ধৈর্যশীল ইনিংস, ৯ চারের সাথে আছে এক ছয়। শেষ ওভারে ৬ বলে ৮ রান দরকার ছিল। ওভারের প্রথম বলে ১রান নেন স্যান্টেনার। অধিনায়ক স্ট্রাইকে এসেই পরের বলে মেরে দেন ছক্কা। তার পরের বলে ৪ হাঁকিয়ে শেষ টেনে দেন।

এর আগে ব্যাটিং দুর্দশা জারি রেখে কোনরকমে আড়াইশর কাছে যায় সাউথ আফ্রিকা। এই বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান রেসি ফন ডার ডুসেনের ৬৭ এবং হাশিম আমলার ৫৫ রানে সম্মানজনক সংগ্রহ পায়।

কিউইদের হয়ে সেরা বোলার লোকি ফার্গুসন। ৫৯ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ট্রেন্ট বোল্ট, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, স্যান্টেনার ভাগাভাগি করেছেন বাকি ৩ উইকেট।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি প্রোটিয়াদের। দ্বিতীয় ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের ভয়ঙ্কর ইয়র্কারে স্টাম্প উপরে যায় ওপেনার কুইন্টন ডি ককের (৫)।

একইরকম আউট হয়েছেন ফ্যাফ ডু প্লেসিসও। লোকি ফার্গুসনের স্লোয়ার ইয়র্কারে স্টাম্প ভেঙে যাওয়া আগে হাশিম আমলার সঙ্গে ৫০ রান যোগ করেছেন অধিনায়ক। নিজে করেছেন ২৩ রান।

অফফর্মে থাকা হাশিম আমলা এ ম্যাচে ফিফটি পেয়েছেন। মিচেল স্যান্টেনারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করে গেছেন চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফিফটি। খুব যে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না সেটা ব্যাটিং দেখেই বোঝা গেছে। ৫৫ রান করতে খেলেছেন ৮৩ বল।

দলকে আড়াইশ ছুঁইছুঁই স্কোরের কাছে নেয়ার মূল কৃতিত্বটা নিতে পারেন এ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের একমাত্র ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান রেসি ফন ডার ডুসেন। আমলার সঙ্গে ৫২ আর ডেভিড মিলারের সঙ্গে তার ৭২ রানের দুটি জুটিতে সাউথ আফ্রিকাকে এনে দিয়েছেন সম্মানজনক সংগ্রহ। ৬৪ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় নিজে করেছেন দলীয় সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৭ রান।