আড়াইহাজারে যুবতীকে আটকে রেখে ধর্ষন,থানায় মামলা

সংবাদদাতা,আড়াইহাজারঃ   মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে এক যুবতী অপহরণের শিকার হয়েছেন। পরে তাকে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে দুইদিন আটককে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আড়াইহাজারের মোল্লারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ওই স্থান থেকে মামার বাড়িতে এসে বিষয়টি তাদের অবগত করলে মামার পরিবার রবিউলের পরিবারের লোকজন জানালে তারা বিষয়টির সুষ্ঠু মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এমনকি মামলা না করার জন্য মামার বাড়িতে ওই যুবতীকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এক পর্যায়ে রবিউল ওই এলাকার ক্ষমতাসীন লোকদের সহযোগিতায় ধর্ষিতা ও মামার পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য বলে এবং যুবতীকে চট্টগ্রামের তার গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়া জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

ধর্ষিতা কৌশলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে মোল্লারচর এলাকা থেকে বেড়িয়ে পড়ে এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে আড়াইহাজার থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ওই যুবতী নিজে বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

মামলার আসামীরা হলেন-উপজেলার মোল্লারচর এলাকার মৃত তমিউউদ্দিনের ছেলে রবিউল আউয়াল (২৫) মৃত আফছর আলীর ছেলে মতিন (৬০), মতিনের স্ত্রী জাহানারা (৫০) মাধবদী দিঘিরপাড়া এলাকার ফজলুল হকের ছেলে ও মেহেরপুর ইউনিয়ণ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আমির হোসেন (২৬) ও খিলগাও মাধবদী এলাকার শাহজালাল (৩০)।

মামলায়  বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার মিরেরসরাই থানাধীন বত্তাকিয়া বাজার এলাকার ফজলুল হকের মেয়ে উক্ত মামলার বাদী তার মামা বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার মোল্লারচর এলাকায় প্রায় সময় বেড়াতে আসেন। এরই সূত্র ধরে দুইমাস আগে স্থানীয় যুবক রবিউল আউয়াল তাকে বিয়ে প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ বিয়েতে ওই যুবতীর পরিবারের কেউ রাজি হচ্ছিল না। পরে সে মামার বাড়ি থেকে চলে যায়। ২৬ জুন তিনি ফের মামার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওইদিনই সন্ধ্যায় তার মুখ চেপে ধরে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান মাধবদী এলাকায় একটি টিনসেট ঘরে আটক রয়েছেন। পরে তাকে দুই যুবক দুইদিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘটনাটি জানাজানি না করতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, ধর্ষিতা যুবতীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে ।ধর্ষক রবিউল আউয়ালসহ ৫জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।