আইভীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে,নইলে উৎখাত -চন্দন শীল

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: নারায়ণগগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি বাবু চন্দন শীল বলেছেন, আমি নিন্দা জানাই যে, এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ (চাষাঢ়ায় প্রাক্তন আওয়ামী লীগ কার্যালয়) হয়েছে যেখানে ২০ জন মানুষ শহীদ হয়েছে । এটি একটি পবিত্র স্থান কিন্তু এখানে একটি ময়লার ডাস্টবিন রাখা হয়েছে! আমি আইভীকে (নাসিক মেয়র) বলতে চাই ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি ক্ষমা না চান তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ (বোমাহামলায়) এবং নারায়ণগঞ্জবাসীকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। এবং আপনাকে উৎখাতের জন্য যা যা করার প্রয়োজন আমরা তাই করব।

রোববার (১৬ জুন) সকালে চাষাড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে ২০০১ সালে’র ১৬ই জুন মর্মান্তিক বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতির মিনার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি এসব কথা বলেন।

চন্দনশীল আরো বলেন, সেদিন টার্গেট ছিলো শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের কান্ডারী। আমরা অত্যান্ত দুঃখিত এবং লজ্জিত যে, এই ১৬ই জুনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি মহল আমরা লক্ষ করেছি মুফতি হান্নান, মোরসালীন, মোত্তাকিন’রা বারবার শিকারোক্তি দিয়েছে তাঁরা এই কাজটার সাথে জড়িত। কিন্তু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানিয়েছি মুফতি হান্নান, মোরসালীন, মোত্তাকিন’রা শুধু লেবারের (শ্রমিকের) দায়ীত্ব পালন করেছে। এর পিছনে পরিকল্পনাকারী অবশ্যই আছে পরিকল্পনা কারীদের খুজে বের করতে হবে। সরকারের কাছে দাবি জানাই মোরসালীন, মোত্তাকিন’রা ভারতের পুলিশের কাছে গ্রেফতারকৃত অবস্থায় ভারতে আছে তাঁদেরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এবং এর পিছনে কারা পরিল্পনাকরী তাঁদেরকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

চন্দনশীল আরো বলেন, আমরা নিশ্চিত এই হত্যাকান্ডের সাথে বিএনপি জামাত জোট এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জড়িত আছে এর প্রমাণ তাঁরাই বারবার দিয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর আমাদের প্রিয়নেতা শামীম ওসমানসহ যারা আমরা ক্ষতিগ্রস্থ সেই নেতৃবৃন্দের নামে তাঁরা পাল্টা মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু আদালত সেই মামলা খারিজ করে দেয়। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন শত্রুতা হচ্ছে। আমরা মনেকরি, আমরা যতদিন বেঁচে আছি ততদিন আমরা এর বিচার চাইব।

চন্দনশীল বলেন, নারায়ণগঞ্জের একটি মহল এই বরর্বতার সাথে জড়িত আছে। সেই মহল এই হত্যাকান্ডটিকে ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য বারবার বারবারা তাঁরা অপপ্রচার করেছে, মিথ্যাচার করেছে তাঁরাই বারবার প্রচারা করেছে যে, শামিম ওসমানই এই বোমা হামলার সাথে জড়িত! যারা এই অপপ্রচার করে তাঁদেরকে নিন্দা জানাই, ধিক্কার জানাই।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া শহীদ মিনার ঘেঁষা আওয়ামী লীগ অফিসে তৎকালীন এমপি শামীম ওসমানের গণসংযোগ কর্মসূচিতে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে জড়িত নেতৃবৃন্দরা জড়ো হতে থাকে। রাত ৭টার মধ্যে পুরো অফিস লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। রাত পৌনে ৯ টায় বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় বোমাটি। হামলায় শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। সেখানে দুই পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন চন্দন শীল।