আওয়ামীলীগ নেতা শহিদউল্লাহ‘র কলাম

আজ একটি নিউজে দুইজন মহান ত্যাগী নেতাদের মাঝখানে আমার ছবি দিয়ে আমাকে তাদের কাতারে ফেলা হয়েছে।
আমি সৌভাগ্যবান ;-এ কারনে যে, যারা রাজনীতি করে গাড়ি- বাড়ি- রাজপ্রাসাদের মালিক হবার সৌভাগ্য লাভ করেছেন তাদের ক্ষমতার কাছে আমিতো নস্যি।তারপরও আমি ত্যাগী? কি করেছি আমি?
হয়ত ছোট বেলায় ছাত্র লীগ করতাম,হয়ত সরকারী চাকুরীর মায়াকে ভয় না পেয়ে ও শ্রমিক রাজনীতি,অতপর ১৯৭৮ সাল হতে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের তিন যুগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম,হয়ত প্রায় অর্ধ শতক ধরে জেলা আওয়ামী লীগে আছি,হয়ত বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জিয়া, এরশাদ বাহিনীর নির্মম কষাকাতে আমি জর্জরিত হয়েছিলাম,
হয়ত ফতুল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে গিয়ে দলকে মুজিবীয় আদর্শের উপর দাঁড় করাতে মরন-পণ যুদ্ধ করেছিলাম,হয়ত জাতির পিতার কন্যাকে অতি সাহস করে ১৯৮১ সালেই বক্তাবলীর চরাঞ্চলে নিয়ে গিয়েছিলাম,হয়ত তাঁকে আবারো ১৯৯২ এবং ১৯৯৮ সালে ঐ অঞ্চলে নেবার ব্যবস্হা করেছিলাম,হয়ত জিল্লুর রহমান,রাজ্জাক ভাই আমু ভাই,তোফায়েল ভাই,মেয়র হানিফ সাহেব,জোহরা তাজউদ্দিন,সাজেদা চৌধুরী,মতিয়া আপা,ওবায়েদুল কাদির সাহেবসহ প্রায় সকল জাতীয় নেতাদেরকে ফতুল্লার মাটিতে বার বার,একাধিকবার এনে মুজিব সৈনিকদের হাতে দলকে সোপর্দ করেছিলাম,
হয়তো ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র,বিষ্ফোরক,খুনের মামলা খেয়ে সন্তানাদি নিয়ে বছরের পর যাযাবরের জীবন যাপন করেও দলকে সুসংগঠিত করে ১৯৯৬ মাননীয় এম.পি শামীম ওসমান সাহেবের এম.পি হবার জন্য সামর্থের চেয়েও ও একটু বেশি অবদান রেখেছিলাম,
হয়ত দলের জন্য বহুবার নিজের শরীরের রক্তই নয়,সন্তানদের শরীরের রক্ত ও ঝড়তে দেখেছিলাম।
তাতে কি হয়েছে? কিচ্ছুই হয়নি।আমাদের রক্ত ছিল পানির,সন্তানদের রক্ত ও তথৈবচ।

এগুলো কি ত্যাগ?

লুট করি নাই,টেন্ডারবাজীতে লিপ্ত ছিলাম না কখনো,জেনে শুনে অন্যায় করিনি,বঙ্গবন্ধু ছাড়া কোন ভাইলীগ করিনি কখনো(কাউকে পছন্দ করা না করা আমার অধিকারভূক্ত)।সন্তানদের নিয়ে মহা দূর্ভিক্ষে থাকলেও দল বেঁচিনি কখনো। এগুলোকে কি ত্যাগ বলা হয়?
ত্যাগই যদি হতো তবে তাদের সাথে আমার ছবি আসতোনা। আমি জানি;- সেই ত্যাগের তালিকায় ও আমার না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

না থাকুক। আমার পরিচয় হোক আমি অন্য কারো সৈনিক নই,– আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সন্তান।তাঁর হাতের পরশ আমার মাথায় আছে।

এই স্মৃতিটুকুই আমার বড় সম্পদ। জানিনা কয়জন এমন সম্পদের দাবিদার বলে দাবি করতে পারবেন।
জয় বাংলা,,,,,,জয় বঙ্গবন্ধু,,,,,।

লেখক ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক