ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন -ইসি রফিকুল

বন্দর(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নির্বাচনে কোন ধরণের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে ভোট গ্রহনের সময় যদি কেউ প্রভাব বিস্তার করে তবে ভোট গ্রহন বন্ধ করে দেয়া হবে।

নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটও যদি কোন ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ পন্থায় জড়িয়ে পড়েন তারপরেও নির্বাচন বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন সেক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসারসহ সবাইকে সব রকমের নিরাপত্তা দেয়া হবে।

আমি একা গনতন্ত্র ঠিক রাখতে পারব না। গনতন্ত্র ঠিক রাখতে চাইলে ভোটার, রাজনিতীবিদ, প্রার্থী ও সুশিল সমাজকে ঠিক করতে হবে। পত্রিকা খুলে দেখবেন কেউ কেউ বলছে আমরা নাকি নির্বাচনকে ধ্বংশ করে দিচ্ছি। আবার কেউ বলছে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ হয়েছে।

পঞ্চম ধাপের আগামী ১৮ জুন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তিনদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসুচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (১২ জুন) বন্দর উপজেলা পরিষদ হল রুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমে বলা হয় তাদের নাকি বাক স্বাধীনতা নেই। তবে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার পরেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নির্বাচন কমিশনকে গালিগালাজ করা হয়।

পূর্বে আমরা অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তা থেকে যেন বের হয়ে আসতে পারি। ব্যালট পেপার ছাপানো ঝামেলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ইভিএম পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

ইভিএম এর মাধ্যমে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিস নিয়ে বির্তক রয়েছে। ইভিএম নিয়েও বির্তক রয়েছে। আমি তা অস্বীকার করছি না। ইভিএম পদ্ধতি চালু হয়েছে ২০০০৮ সালে। ১৭ টি উপজেলায় ইভিএম এর মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় প্রক্ষিনার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ইভিএম মেশিনে ব্যালট পেপার রয়েছে। মেশিন থেকে র‌্যালট পেপার কিভাবে ইস্যু করবে তা ভালোভাবে জানবেন। আপনাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ পাওয়া গেলে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নারায়ণগঞ্জ ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ঢাকা অঞ্চল মোঃ রকিবুল মন্ডল,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান, বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সহকারি ভূমি কমিশনার আফিফা খান, বন্দর থানা অফিসার ইনর্চাজ মোঃ রফিকুল ইসলাম, বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অফিসার নাজিম উদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বন্দর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ।
তবে নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও পুরুষ ভাইস চেয়াম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।