আবারও মহানায়ক হতে চান গোলরক্ষক সুবাসিচ

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপে দারুণ খেলছে ক্রোয়েশিয়া। আসরের প্রথম ম্যাচেই তারা নাস্তানাবুদ করে দেয় শিরোপাপ্রত্যাশী মেসি বাহিনীকে। নিজেদের পূর্ণ সামর্থ্য তখনই জানান দেয় হারভাসকা নামের দলটি।

নিজেদের সব কটি খেলা জেতার পর গ্রুপ ডি থেকে ক্রোয়েশিয়া শেষ ষোলোতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠে। শেষ ষোলোর বাধা টপকায় তারা ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারিয়ে।

সোচিতে আগামী শনিবার মুখোমুখি হবে আয়োজক দেশ রাশিয়ার।

এদিকে বিশ্বকাপের শুরুতে রাশিয়ার দিকে মনোযোগই ছিল না ফুটবলভক্তদের। কিন্তু এখন আন্ডারডগ বললে ছোট করা হবে স্বাগতিকদের। র‌্যাংকিংয়ে বেশ পিছিয়ে থাকা দলটি এখন সমর্থকদের উল্লাসে বিশ্বকাপে ঘটিয়ে যাচ্ছে নানা অঘটন।

উরুগুয়ে ছাড়া আর বাকি সব দলকেই পরাস্ত করে শেষ আটে এসেছেন স্তানিস্লাভ চেরচিয়েসোভের শিষ্যরা।

শেষ ম্যাচে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারিয়েছে তারা। তাই কেবল বিশেষজ্ঞরাই নয়, ফুটবলপ্রেমী সবাই ভাবছেন কোয়ার্টার ফাইনালে এই দুই দেশের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

অবশ্য ফুটবল পণ্ডিতরা মনে করছেন, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাশিয়া তার নিজস্ব ক্ষমতাকে ছাপিয়ে নিজেদের উজাড় করে দেবে। এবং নিজেদের ছাপিয়ে যাওয়ার শক্তিটা তারা পাবে দেশের হাজার হাজার মানুষের সমর্থনে।

তবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেপড়া ফুটবলবোদ্ধাদের জবাব দিচ্ছেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচ।

ডেনমার্কের বিপক্ষে অসাধারণ গোলরক্ষা করে মহানায়ক হয়ে ওঠা সুবাসিচ দাবি করছেন, রুশ আগ্রাসনের চ্যালেঞ্জ সামলানোর জন্য তারা তৈরি আছেন।

এক দোভাষীর সাহায্য নিয়ে সুবাসিচ বলেন, ‘ওরা নিজেদের মাঠে খেলবে। প্রচুর সমর্থনও থাকবে তাদের। এমনিতে দলটিও বেশ ভালো। তবে শনিবার আমরাও যে কোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকব।’

তিনি সঙ্গে আরও যোগ করেন, ‘এই রাশিয়ার জবাব আমাদের কিন্তু জানা আছে।’

ডেনমার্কের বিপক্ষে টাইব্রেকারে সুবাসিচ তিনটি শট আটকে দিয়ে দলের মূল ভরসায় পরিণত।

বিশ্বকাপে এই কৃতিত্ব তার আগে একজনেরই ছিল। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তিনটি শট আটকে দিয়েছিলেন পর্তুগালের গোলরক্ষক রিকার্ডো। সন্দেহ নেই, বিপক্ষ গোলপোস্টের নিচে সুবাসিচের উপস্থিতি রাশিয়াকে উদ্বেগে রাখবে।