নওগাঁর মহাদেবপুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা:ফাঁসির দাবী!

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বাখেরাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক যুবককে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ায় ফাঁসির দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাবিল উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক(৩২) ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম (২৭) দুইজনে মিলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এন্তাজ আলীকে পাকা রাস্তার উপর আছাড় মেরে হত্যা করেছে।

মামলা সূত্রে আরো জানা গেছে, গত ০৫/০৬/১৯ ইং তারিখ ঈদের দিন বুধবার বিকেলে মোজাম্মেল হকের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে এন্তাজ আলী(৩৫) তার বাড়ি সামনে পাকা রাস্তার পাশে বসে ছিল।

সে সময় এনামুল হক ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগমকে মটর সাইকেলের পিছনে নিয়ে তরিৎ গতিতে তার বাড়ি যাওয়ার পথে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এন্তাজ আলীকে মোটর সাইকেল দ্বারা সজোরে ধাক্কা মেরে এন্তাজকে রাস্তার উপর ফেলে চলে যায়।

মোটর সাইকেল ধাক্কার পরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এন্তাজের কোমরসহ পিঠে ছিলা ফোলা জখম হয় বলে জানা গেছে ।

পরবর্তীতে ০৬/০৬/১৯ ইং তারিখ ঈদের পরের দিন রোজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এন্তাজ আলী বাখেরাবাদ উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পার্শ্বে পাকা রাস্তায় এনামুল হক ও তার স্ত্রীকে কথা শুনতে পেয়ে তাদের এন্তাজ আলী মোটর সাইকেল ধাক্কা মারার কথা বলতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এক পর্যায়ে পরিকল্পিত ভাবে এন্তাজ আলীকে পাজাকোলা করে হত্যার উদ্দ্যেশে সন্ত্রাসী কায়দায় পাকা রাস্তার উপড়ে সজোরে আছাড় মারিলে মাথার পিছনে গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হলেও ছাড় পায়নি এন্তাজ আলী।

রাস্তার পাশে থাকা এনামুল হকের স্ত্রী ঘটনা দেখতে পেয়ে গাছের ডাল দিয়ে হত্যার করার জন্য এলোপাথারী ভাবে মারপিট করতে থাকে।

মারপিটের এক পর্যায়ে এন্তাজ আলী কয়েক বার বমি করে বেহুশ হয়ে পরে।

এমতো অবস্থায় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এন্তাজ আলীর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুননাহার রিতা জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এন্তাজ আলীর মৃত্যুতে আমার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাই আমার দাবী যেন এনামুল হক ও তার স্ত্রীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সৌখিন জানান, আমি এনামুল হক ও তার স্ত্রী ফাঁসি চাই তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এন্তাজের মৃত্যুর কারন এভাবে মারপিট করার জন্য আর পাকা রাস্তায় আছাড় মারার কারনে মৃত্যু হয়েছে।

এবিষয়ে মহাদেবপুর থানা অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন বলেন , ঘটনার সত্যতা পেয়েছি এবং এবিষয়ে মামলা হয়েছে। একজন আসামীকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।