সোনারগাঁয়ে চলন্ত বাসে কিশোরী ধর্ষন,চালকসহ গাড়ী আটকে দিল জনতা

সোনারগাঁ(আজকের নারায়নগঞ্জ): আবারো চলন্ত বাসে কিশোরী যাত্রী ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। তবে রাস্তায় বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের প্রচেষ্টায় আরেকটি করুন পরিনতি থেকে আপাতত রেহাই পেয়েছে সেই কিশোরী।

সোমবার(১০ জুন) রাতে সোনারগাঁয়ের স্থানীয় সিটিং সার্ভিস স্বদেশ পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে এক কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষনরত অবস্থায় চালকে আটক করে জনতা। পরে সোনারগাঁ থানা পুলিশকে খবর পেলে চালক শামিম মিয়া ও বাসটি জব্দ করে থানা পুলিশ।

ধর্ষক চালক শামীম মিয়া নানাখি মধ্যপাড়া গ্রামের আঃ রব ভূইয়ার ছেলে। কিশোরির বাড়ি কিশোরগঞ্জ। সে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বালুকান্দি ইউনিয়নের মেম্বাররের বাড়ির ভাড়াটিয়া, তার নাম শাহিনা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে দশটায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়ির জন্যে অপেক্ষা করছিল, এমন সময় ঢাকা টু মেঘনায় চলাচলরত একটি স্বদেশ গাড়ি দেখে থামাতে বললে গাড়িটি আরো দ্রুতবেগে ছুটে যেতেই বাস থেকে এক কিশোরীর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনতে পেয়ে সাবই দৌড়ে গাড়ির সামনে দাড়ায়। গাড়ি থামলে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়িরা গাড়িতে উঠে দেখতে পায় হেল্পপার গাড়ি চালাচ্ছে আর গাড়ির চালক এক কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষন করছে। পরে তাকে আটক করে সোনারগাঁ থানা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে এস আই তাওহীদ গাড়ির চালক এবং স্বদেশ বাস ) ( ঢাকা মেট্টো-ব-১১-৭২৬৫) গাড়িটি আটক করে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে আসে।

সূত্র আরও জানায়, ওই কিশোরী ঈদের ছুটি শেষে সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া থেকে মেঘনা যাওয়ার জন্য স্বদেশ পরিবহনের বাসটিতে উঠে। তখন বাসটির চালক মোগড়াপাড়ায় সব যাত্রীকে নামিয়ে দিলেও তাকে মেঘনায় নামিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু বাসের চালক শামীম গাড়ির সিট ঠিক করার কথা বলে হেলপাড়কে গাড়ি চালানোর কথা বলে এবং গাড়ি আস্তে আস্তে চালাতে বলে। একপর্যায়ে গাড়িটি মেঘনা ব্রিজের নিচে নিয়ে ঘুরাতে থাকে আর কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

নিউটাউনের ব্যবসায়ীরা জানান, মেয়ে কন্ঠে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের সামনে মানব দেয়াল তৈরি করি। বাসে উঠে ধর্ষণ চেষ্টারত অবস্থায় চালককে আটক করি এ ফাঁকে সুযোগ বুঝে হেল্পপার পালিয়ে যায়। এমনও হতে পারতো ধর্ষণ শেষে মেয়েটিকে হত্যা করে ফেলে যেতো।

জনপ্রিয় এই সিটিং সার্ভিস স্বদেশ বাস বহুদিন যাবত সুনামের সাথে সেবা দিয়ে আসছে, আজ তাদের এই লম্পট চালক ও হেল্পার এমন নিকৃষ্ট কাজ করে এই বাস সার্ভিসের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। এ ঘটনার পর আর কোনো যাত্রী এই বাসে উঠবে বলে মনে হয় না। একতাবদ্ধ জনতা চিৎকার করে বলেন, আমরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এস আই তাওহিদ উল্লাহ জানান, স্বদেশ বাসে ধষনের খবর পেয়ে মেঘনা নিউটাউনে গিয়ে জনতার হাত থেকে ধর্ষক ও গাড়ি আটক করি।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্ষণে অভিযোগে ধর্ষক চালক ও বাসটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। চালকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।