নওগাঁর মান্দায় দোকানঘর চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

 

নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁর মান্দায় দোকান ঘরে চুরি! ইন্ধন দাতা,মূল হোতা বা নেপথ্যে কে? এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মান্দা উপজেলার মৈনম ইউপির ভোলাবাজারের একটি মোবাইল-ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশ এজেন্টের দোকানে চুরি সংঘটিত হয়।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া দোকানটি রায়পুর গ্রামের মৃত সমিরন মাষ্টারের ছেলে সুমিত্র কুমার মন্ডল গোপালের ।তিনি দীর্ঘদিন থেকে ওই বাজারে দোকান করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত কয়েক দিন পূর্বে দোকান ঘরের তালা ভেঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার টাকার বেশকিছু মালামাল চুরি হয়ে যায় এবং ওই ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগীতায় একজনকে আটক করে মান্দা থানা পুলিশ। এর আগে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ভোলাবাজার বনিক সমিতি কর্তৃক একটি মিটিং হয়। মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী রাজা, ভোলাবাজার বনিক সমিতির সভাপতি আকরামুল হক টুনু মেম্বার (সাবেক)সহ আরো অনেকে। মিটিংয়ে সকল নাইটগার্ডদেরকে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কে আসল চোর? কেনোইবা এই দোকান ঘর চুরি? চুরির নেপথ্যেই বা কে? আর চোরের নেতৃত্বইবা কে দিয়েছিলেন?

অনেক জল্পনা কল্পনার শেষে বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল হোতার নাম। চোর নিজে নিজেই অকপটে স্বীকার করে কার ইন্ধনে সে এমন ঘৃণীত কাজ করার দু:সাহস পেয়েছে। শত শত উৎসুক জনতার মাঝে দোকান ঘরের চোর ভোলাবাজারের নাইটগার্ড-দাঁতের গ্রাম্যডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক জানায় যে, বেশকিছু দিন থেকে ওই এলাকারই এক আ’লীগ নেতা তাকে দোকান চুরির ব্যাপারে ইন্ধন যোগাতো।

বর্তমানে ওই নেতা মৈমন ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে দায়িত্বে আছেন। নাম তার আনিছুর রহমান। যার বাড়ি বর্দ্দপুর গ্রামে। তার বাবার নাম কাল মোহাম্মদ। আর ওই দিনেও চোর আব্দুর রাজ্জাককে উদ্বুদ্ধ করে ওই নেতা। সেকারনেই মূলত: দোকান চুরি করার মতো দু:সাহস জন্মে তার। কথায় আছে না,চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী।চোরের দশ দিন আর সাউদের একদিন।ঠিক তাই হলো । চুরি করে শেষ রক্ষা হলো না রাজ্জাকের। ধরা খেয়ে বেরিয়ে আসলো সব গোপন খরব। কে আসল চোর। মজার ব্যাপার তাই না? চোরে চোরে মাসতাতো ভাই,গাঁইটকাটার কেউ নাই।কথা সত্য। স্থানীয় দোকানদারগন এবং মৈনম এলাকাবাসী আ’লীগ নেতা একজন নাইটগার্ডকে চুরি করার কাজে উদ্বুদ্ধ করায় তার প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন।এতোবড় অপরাধ করার পরেও মামলায় চোরের মুলহোতার নাম না থাকায় সর্বসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন এই নেতা যদি জনপ্রতিনিধি হয় তবে সাধারন জনগন তার থেকে কি আশা করতে পারে? গত ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। দোকানের মালিক সুমিত্র কুমার মন্ডল গোপাল জানায়, রাতের অন্ধকারে আমার দোকান ঘরের তালা ভেঙ্গে দোকান ঘরের বেশকিছু মালামাল চুরি হয়ে যায়।

এনিয়ে মান্দা থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেছি এবং আব্দুর রাজ্জাক নামের একজন নাইটগার্ড আমার দোকানঘরটি চুরি করায় মান্দা থানা পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে ।আমি এর সঠিক বিচার চাই। কারো প্রতি আমার সন্দেহ নেই।

তবে রাজ্জাক চোর তার সহযোগী হিসেবে একাধিক ব্যাক্তির নাম বলেছে। তাদের মধ্যে ওই আ’লীগ নেতাও সম্পৃক্ত আছে বলে রাজ্জাক জানায়। এটি আমার বিশ্বাস হয়নি। তার কারন তার সাথে তো আমার সম্পর্ক খারাপ না। আর তার সাথে তো আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তার দ্বারা এমন কাজ হতে পারে না।তবে সত্যও হতে পারে। বলা তো যায় না কার মনের ভিতর কি আছে? আমার দোকান ঘর হতে চুরি হওয়া মালামালগুলো বের হলেই হলো। আমি কাউকে দোষারোপ করছিনা।

ইন্ধনদাতা ওই আ’লীগ নেতা আনিছুর রহমানকে মুঠোফোনে না পাওয়ায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এ ব্যাপারে মান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোজাফ্ফর হোসেন দোকান ঘর চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দোকানদার অভিযোগ করায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে । তদন্ত চলছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গগ্রন করে চুরি যাওয়া মালামালগুলো উদ্ধারের জোর চেষ্টা চলছে।