না‘গঞ্জে পুলিশী বাধাঁয় গনসংহতির মানববন্ধন পন্ড

আজকের নারায়নগঞ্জঃ গণসংহতি আন্দোলননারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সদস্যদের সাথে নেতৃবৃন্দের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ের তাদের হাত থেকে ব্যানার কেড়ে নেয় পুলিশ সদস্যরা।  সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে সংগঠনটি এ কর্মসুচী পালনের আয়োজন করেছিল।

বুধবার বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে জেলার সাংবাদিক, শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবি, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও পেশাজীবী অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের নিয়ে এই প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ৩টা থেকেই প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। এসময় কাউকেই প্রেসক্লাব ভবনের সামনে দাঁড়াতে না দিয়ে মানববন্ধনের জন্য টানানো মাইক খুলে ফেলে তারা।

বিকেল ৪টা বেজে ৮ মিনিটে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক তরিকুল সুজন, স্বাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, কমিউনিষ্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নাগরিক কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ অন্যান্যরা প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়াতে চেষ্টা করলে তাদের সাথে পুলিশের  তর্কাতর্কি শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদিন ও পুলিশ পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা তাদের কাছে মানববন্ধন করার অনুমতিপত্র দেখতে চায়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় মানববন্ধন করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যানার কেড়ে নিয়ে তাদের প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সরিয়ে দিতে চড়াও হয় পুলিশ। পরে  নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবে ঢুকে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক তরিকুল সুজন বলেন, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। কোটা প্রথা সংস্কারের মাধ্যমে তা ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র ব্যানারে দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। আন্দোলনে ভীত হয়ে সরকার ‘কোটা প্রথা বাতিল’র মতো একটি ছলচাতুরির ঘোষনার মাধ্যমে আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করেন। আর আজ আমরা এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে চাইলে এ সরকার ফ্যাসিস্ট আচরণ করেছেন। আমাদের মাইক খুলে নিয়েছে ও ব্যানার কেড়ে নিয়েছে। অনেক শিক্ষক, ডাক্তার ও সুধীজনকে মানববন্ধনে আসতে বাঁধা দেয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এমন অত্যাচারী পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে সামান্য সমালোচনাও তারা সহ্য করতে পারছে না। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলে ছাত্ররা তাদের আন্দোলন স্থগিত করে। কিন্তু এর পরেই সরকারের মন্ত্রীরা একের পর এক বেফাস কথা বলা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীও তার কথা না রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের ঘোষণার পরও কোন প্রকার প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আবারো আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র নেতারা। আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের উপর নৃশংসভাবে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। সরকার দেশকে পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে। খুঁজে খুঁজে অত্যাচার করা হয় আন্দোলনকারীদের। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও সোমবার নির্লজ্জভাবে হামলা চালানো হয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর।

নির্বাচন যতইএগিয়ে আসছে সরকার স্বৈরশাসকে রূপান্তরিত হচ্ছে। আমাদের দাবি হচ্ছে যারা এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত তাদের কোনরকম ক্ষতি করা যাবে না। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক কমিটির নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, পুলিশ সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে কোটার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমরা প্রয়োজন মনে করি না।

কমিউনিষ্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, সরকার যে কোন ন্যায্য আন্দোলন তৈরী হলেই তাকে জামাত বিএনপি আখ্যা দিয়ে দমন করতে চায়। আন্দোলনকারীকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে দেখাতে চায়। এরশাদের পর সরকার নব্য স্বৈরশাসকের ভূমিকায় চলে এসেছে। সরকার তাঁর এ ভূমিকা থেকে সরে না আসলে কোটা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে পথে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী, অঞ্জন দাশ, পপি রানী দাশ, মসিউর রহমান রিচার্ড, ইলিয়াস জামান, ফারহানা মোনা, খাদিজা আক্তার অন্তরা, শুভদেবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।