নিউজিল্যান্ডকে ২৪৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ২৪৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৪৪ রান তুলেছে টাইগাররা। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড গড়ার পর এ ম্যাচে চার বল বাকী থাকতেই গুটিয়ে গেছে মাশরাফীর দল। সাকিব সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেছেন।

ওভালে বাংলাদেশ ৩৩০ রান করার পরও সাউথ আফ্রিকা প্রায় কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। সেই মাঠে আড়াইশ’র নিচে স্কোর, বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জটা কঠিনই করে দিলেন ব্যাটসম্যানরা।

সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের মতো বুধবার ওভালের আকাশটাও ছিল উজ্জ্বল। মেঘহীন আকাশের নিচে তবুও বিদ্যুৎ চমকানির শঙ্কা। সেটা উপর থেকে নয়, মাঠে নিউজিল্যান্ড পেসারদের দিক থেকে। তাইতো শুরুটা বেশ সাবধানেই করলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। কয়েক ওভার যেতেই হাত খোলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। হাফডজন বাউন্ডারিতে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন।

কিন্তু ব্যাট-বলের সেই ছন্দটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি দুই ওপেনার। স্কোর বোর্ডে ৪৫ রান উঠতেই বিচ্ছিন্ন দুজনে। ম্যাট হেনরির করা ইনিংসের অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে ফেরেন সৌম্য। নিচু বল আড়াআড়িভাবে লেগসাইটে খেলতে গেলে ব্যাটে না লেগে সরাসরি উইকেট ভেঙে দেয় বল। তিনটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে ২৫ বলে ঠিক ২৫ রান করেন সৌম্য।

সঙ্গী হারিয়ে আরেক ওপেনার তামিম ইকবালও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। দলীয় ৬০ রানের মাথায় আউট হন তামিম। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে আসে ২৪ রান। কিছুটা ধীরে শুরু করলেও ইনিংস বড় করার আগেই লোকি ফার্গুসনের বলে ট্রেন্ট বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান তামিম। দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

আবারো চাপ কাটানোর দায়িত্ব চাপে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের কাঁধে। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের ম্যাচেই দুজনে মিলে রেকর্ড জুটি গড়েছিলেন। এদিনও সাকিবের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিক সংযোগ হলেও সিঙ্গেল রান নেয়ার ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যেই বোঝাপড়ার অভাব দেখা যায়। একাধিকবার শঙ্কা জাড়িয়ে সেই ভুল বোঝাবুঝির ছুরিতেই কাটা পড়েন মুশফিক। গাপটিল-ল্যাথামের যুগলবন্দীতে ব্যক্তিগত ১৯ রানে ফেরেন আগের ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার।

অন্যরা ইনিংস লম্বা করতে না পারলেও সাকিব ছিলেন সাকিবের মতো। উইকেটের চারপাশে একের পর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। টানা দুই ম্যাচসহ সবশেষ ছয় ম্যাচে এটি তার পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি। এই ম্যাচেই আবার ওয়ানডে খেলার ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন সাকিব।

জিমি নিশামকে টানা তিনটি বাউন্ডারি হাঁকানো সাকিব এতোই ভালো খেলছিলেন যে, হাফসেঞ্চুরি তোলার পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তার কাছ থেকে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির আশা করছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু ষাটের ঘর ছোঁয়ার পরই স্বপ্নভঙ্গ। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের স্লো বল স্টিয়ার খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব, সেই বল ব্যাটে পরশ বুলিয়ে জমা পড়ে উইকেটকিপার টম ল্যাথামের দস্তানায়। মাইলফলকের ম্যাচে ৬৪ রানে থামতে হয় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। তার ৬৮ বলের ইনিংসে চোখ ধাঁধানো সাতটি চারের মার।

ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে বেশিদূর হাঁটতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন। আগের ম্যাচের চেয়ে ৫ রান বেশি করে এদিন ফেরেন ২৬ রানে। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংসের সাইজ বাড়াতে পারছেন না তিনি। সবশেষ ছয় ম্যাচের একটিতে কেবল ৪৩ রান করতে পেরেছেন। ম্যাট হেনরির শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি মিঠুন। সহজ ক্যাচ আস্থার সঙ্গেই তালুবন্দী করেন গ্র্যান্ডহোম।

সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংসের ফিনিশিংটা দারুণ দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু এদিন তিনি এমনভাবে আউট হলেন, দেখে মনে হয়েছে কেন উইলিয়ামসনকে ক্যাচ অনুশীলন করাচ্ছেন। মিচেল স্যান্টেনারের বলে কভারে ধরা পড়ার আগে করতে পারেন ২০ রান। আগের ম্যাচে ৩৩ বলে যেখানে এক ছক্কাসহ চারটি বাউন্ডারি মেরেছিলেন, এদিন সেখানে ৪১ বলের ইনিংসে একবার বল আর সীমানারেখার মিলন ঘটাতে পারেননি।

হতাশ করেছেন মোসাদ্দেক হোসেনও। সিনিয়র মাহমুদউল্লাহ পথে হেঁটে তিনি করেন ২২ বলে ১১ রান। বোল্টের উঁচু বল আকাশে তুলে গাপটিলের হাতে ধরা পড়েন। মিরাজও ফেরেন দুই অঙ্কের নিচে। বোল্টের বাউন্সার তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা হয় উইকেটকিপারের গ্লাভসে। খাতা খোলার পরপরই ফেরেন মাশরাফী। থার্ডম্যানে বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে হেনরির তৃতীয় শিকার বাংলাদেশ অধিনায়ক।

চার বল বাকী থাকতে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে হেনরির বলে বোল্ট হন ইনিংসটা আড়াইশ’র কাছাকাছি টেনে নেয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিন চার ও এক ছক্কায় ২৩ বলে ২৯ রান করেন এ পেস-অলরাউন্ডার।

ম্যাট হেনরি চারটি ছাড়া কিউইদের হয়ে দুটি উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। তিন বোলার নেন একটি করে উইকেট।