‘আমার বাবাকে এনে দিন, বাবাকে ফেরত চাই’।

আজকের নারায়নগঞ্জঃ ১৬দিন ধরে নিখোঁজ সোনা ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের সন্ধান চেয়ে রাজপথে কাঁদলেন তার স্ত্রী ও মেয়ে। বুধবার (০৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ভোলানাথ জুয়েলারীর মালিক নিখোঁজ প্রবীর ঘোষের সন্ধান দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসেছিলেন তার স্ত্রী রূপা ঘোষ ও মেয়ে দিয়া ঘোষ।

এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তারা। এখানে তারা যেমন কেঁদেছিলেন তেমনি তাঁদের কান্নায় কেঁদেছিলো সবাই।

মানববন্ধনে যখন প্রবীর ঘোষের স্ত্রী রূপা ঘোষকে কিছু বলতে বলা হলো, তখন তিনি ‘আমি আর কিছু চাই না, আমার স্বামীকে ফেরত চাই’ বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। প্রবীর ঘোষের মেয়ে দিয়া ঘোষকেও কিছু বলার জন্য বললে সেও তার মায়ের মতো কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘আমার বাবাকে এনে দিন, বাবাকে ফেরত চাই’।

মানববন্ধন শেষে শহরে একটি মৌণ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চাষাড়া হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে নেতৃবৃন্দরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট সাক্ষাত করে প্রবীরকে ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।

জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামানের সাথে সাক্ষাত করে এ ঘটনা তুলে ধরলে তার প্রশাসন এ ব্যপারে সিরিয়াসলি কাজ করছে বলে জানান। এসময় আসাদুজ্জামান প্রবীরের পরিবারসহ নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে আরো বলেন, “আমরা বসে নেই। আশাকরছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা একটা রেজাল্ট দিতে পারবো।”

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদন্নোতি পাওয়া পুলিশ সুপার) মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে দেখা করলে তাঁরা প্রবীবের পরিবার ও নেতৃবৃন্দকে বলেন, “আমরা প্রবীর সন্ধান বের করতে সব দিক মাথায় রেখে কাজ করছি। আমরা এ বিষয়ে খুবই তৎপর আছি। বর্তমানে প্রবীরের নিখোঁজের বিষয়টিতে ডিবিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে এ বিষয়টি তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে আমরা কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে দু’দফা অভিযান চালিয়েছি। আমরা খুব কাছকাছি চলে এসেছি, শিগগিরই প্রবীরের বিষয়টা শেষ হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন, গোপি নাথা দাস, শিপন সরকার, লিটন চন্দ্র পাল, বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতির জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ও স্বর্ণ পট্টির মার্কেট সমিতির সভাপতি শহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ শীল, স্বর্ণ শিল্প শ্রমিক ইউনিয়ণ সভাপতি অরুণ কুমার দত্ত, সাধারণ সম্পাদক মুকুল মুজদমদার প্রমূখ।

 

প্রসঙ্গত, ১৮ জুন রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পরই নিখোঁজ হন প্রবীর ঘোষ। তিনি কালির বাজার স্বর্ণপট্টি এলাকার ভোলানাথ জুয়েলারীর মালিক। প্রবীর ঘোষের নিখোঁজের পর তার পিতা ভোলানাথ ঘোষ বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পুলিশ বলছে, ভোলানাথের জিডির উপর ভিত্তি করেই তদন্ত চলছে।

এদিকে জিডি দায়েরের পর পুলিশ গত ১৩ দিন ধরে একই আশ্বাস দিয়ে আসছেন প্রবীর ঘোষের পরিবারকে। কিন্তু এই আশ্বাসে এখন আর এই পরিবারটি আশ্বস্ত হতে পারছেন না।