ওসি‘র দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ এসআই ‍সুদীপের আত্নহত্যা !

                  ওসি আবদুল জলিল                     গলায় ফাঁস দেয়া এসআই সুদীপ

সারাবাংলা(আজকের নারায়নগঞ্জ): সিলেটের গোয়াইনঘাটে থানা পুলিশের এক সহকারী পুলিশ পরিদর্শকের (এসআই) আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার বিকেলে ৪টায় থানা অভ্যন্তরে পুলিশ কোয়ার্টারে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম সুদীপ বড়ুয়া (৪৩), তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার সুনাইচড়ি গ্রামের রবীন্দ্রনাথ বড়ুয়ার পুত্র।

তবে এসআই সুদীপের পরিবারের অভিযোগ গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুল জলিলের দুর্ব্যবহারের কারনেই গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি। সুদীপের মেয়ে শতাব্দী বড়ুয়া বলেন,বাবা প্রায়ই ফোন করে বলতেন,থানা ওসি দুর্ব্যবহার করে দিন-রাত চাপের মধ্যে রাখেন। সর্বশেষ শনিবারও বাবার সাথে কথা হয়েছে,তখন বাবা বলেছেন, এ থানায় তিনি আর থাকতে চান না।মানসিক চাপেই তিনি আত্নহত্যা করেছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আবদুল জলিল বলেন,ময়না তদন্তেরজন্যে লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কি কারনে তিনি আত্নহত্যা করেছেন তা তদন্ত করে বের করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর ২টায় এসআই সুদীপের স্ত্রী ববি বড়ুয়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দিয়েও কোন সাড়া পাননি। এমন কি কয়েকবার ফোন দেওয়ার পরও তিনি ফোন রিসিভ না করার একপর্যায়ে তিনি (ববি বড়ুয়া ) থানার কম্পিউটার অপারেটর অজয়কে ফোন দিয়ে বলেন তার স্বামী সুদীপ ফোন ধরছেন না। এমন খবর পেয়ে অজয় মোবাইল ফোন নিয়ে থানা কোয়ার্টারের দ্বিত্বীয়তলায় এসআই সুদীপের কক্ষে গিয়ে দেখেন নিজ কোর্য়াটারে এসআই সুদীপ জানালার গ্রীলের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। এমন অবস্থার চিত্র দেখে সাথে সাথে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিলকে অবহিত করেন।

পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তাৎক্ষণিকভাবে সিলেটের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান (পিপিএম), গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মাহবুব আলম, গোয়াইনঘাটের সার্কেল এএসপি নজরুল ইসলাম ও থানার ওসি আব্দুল জলিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এবং তাদের উপস্থিতিতেই লাশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তর (মিডিয়া) মাহবুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, মৃতদেহের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে ঠিক কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হবে বলে তিনি জানান।

সুদীপ বড়ুয়া প্রায় ২৮ বছর ধরে পুলিশে চাকরী করছেন। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রেুয়ারি তিনি গোয়াইনঘাট থানায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি বালাগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। সুদীপ বড়ুয়ার এক ছেলে অভি বড়ুয়া এবং মেয়ে সব্রত বড়ুয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছে