মান্দার ভোলাবাজারে দোকানঘরে চুরির মূল হোতা কে? জনমনে প্রশ্ন

নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁর মান্দায় দোকান ঘরে চুরি! ইন্ধন দাতা বা মূল হোতা কে? এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সম্প্রতি মান্দা উপজেলার মৈনম ইউপির ভোলাবাজারের একটি ফেক্সিলোডের দোকানে চুরি সংঘটিত হয়।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া দোকানটি রায়পুর গ্রামের সুমিত্র কুমার মন্ডল গোপালের ।তিনি দীর্ঘদিন থেকে ওই বাজারে দোকান করে অাসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত কয়েক দিন পূর্বে দোকান ঘরের তালা ভেঙ্গে বেশকিছু মালামাল চুরি হয়ে যায় এবং ওই ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগীতায় একজনকে অাটক করে মান্দা থানা পুলিশ।

এর অাগে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ভোলাবাজার বনিক সমিতি কর্তৃক একটি মিটিং হয়। মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন অালী রাজা, ভোলাবাজার বনিক সমিতির সভাপতি একরামুল হক টুনু মেম্বারসহ অারো অনেকে। মিটিংয়ে সকল নাইটগার্ডদেরকে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে অাসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কে অাসল চোর?  কেনোইবা এই দোকান ঘর চুরি?

অনেক জল্পনা কল্পনার শেষে বেরিয়ে অাসে ঘটনার মূল হোতার নাম। চোর নিজে নিজেই অকপটে স্বীকার করে কার ইন্ধনে সে এমন ঘৃণীত কাজ করার দু:সাহস পেয়েছে। শত শত উৎসুক জনতার মাঝে দোকান ঘরের চোর ভোলাবাজারের নাইটগার্ড,দাঁতের ডাক্তার অাব্দুর রাজ্জাক জানায় যে, বেশকিছু দিন থেকে ওই এলাকারই এক অা’লীগ নেতা তাকে দোকান চুরির ব্যাপারে ইন্ধন যোগাতো। বর্তমানে ওই নেতা মৈমন ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে দায়িত্বে অাছেন। নাম তার অানিছুর রহমান।

অার ওই দিনেও তাকে উদ্বুদ্ধ করে ওই নেতা। সেকারনেই মূলত: দোকান চুরি করার মতো দু:সাহস জন্মে তার। কথায় অাছে না,চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী।চোরের দশ দিন অার সাউদের দশ দিন।ঠিক তাই হলো । চুরি করে শেষ রক্ষা হলো না রাজ্জাকের। ধরা খেয়ে বেরিয়ে অাসলো সব গোপন খরব। কে অাসল চোর। মজার ব্যাপার তাই না? চোরে চোরে মাসতাতো ভাই,গাঁইটকাটার কেউ নাই।কথা সত্য। স্থানীয় দোকানদারগন এবং মৈনম এলাকাবাসী অা’লীগ নেতা একজন নাইটগার্ডকে চুরি করার কাজে উদ্বুদ্ধ করায় তার প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন।

এতোবড় অপরাধ করার পরেও মামলায় তার নাম না থাকায় সর্বসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাদের প্রশ্ন এই নেতা যদি জনপ্রতিনিধি হয় তবে সাধারন জনগন তার থেকে কি অাশা করতে পারে?

গত ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

দোকানের মালিক সুমিত্র কুমার মন্ডল গোপাল জানায়, রাতের অন্ধকারে অামার দোকান ঘরের তালা ভেঙ্গে দোকান ঘরের বেশকিছু মালামাল চুরি হয়ে যায়। এনিয়ে মান্দা থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেছি এবং অাব্দুর রাজ্জাক নামের একজন নাইটগার্ড অামার দোকানঘরটি চুরি করায় মান্দা থানা পুলিশ তাকে অাটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে ।অামি এর সঠিক বিচার চাই। কারো প্রতি অামার সন্দেহ নেই।তবে রাজ্জাক চোর তার সহযোগী হিসেবে একাধিক ব্যাক্তির নাম বলেছে। তাদের মধ্যে ওই অা’লীগ নেতাও সম্পৃক্ত অাছে বলে রাজ্জাক জানায়। এটি অামার বিশ্বাস হয়নি। তার কারন তার সাথে তো অামার সম্পর্ক খারাপ না। অার তার সাথে তো অামার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে সত্যও হতে পারে। বলা তো যায় না কার মনের ভিতর কি অাছে? অামার দোকান ঘর হতে চুরি হওয়া মালামালগুলো বের হলেই হলো। অামি কাউকে দোষারোপ করছিনা।

অভিযুক্ত ওই অা’লীগ নেতা অানিছুর রহমানকে মুঠোফোনে না পাওয়ায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এ ব্যাপারে মান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোজাফ্ফর হোসেন দোকান ঘর চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দোকানদার অভিযোগ করায় একজনকে অাটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে ।তদন্ত চলছে, অাইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করে চুরি যাওয়া মালামালগুলো উদ্ধারের জোর চেষ্টা চলছে।