ভিজিডির চাল চুরির দায়ে ইউপি চেয়্যারম্যানসহ তিনজন আটক

সারাবাংলা(আজকের নারায়নগঞ্জ): দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দ ভিজিডির চাল চুরির দায়ে রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করণী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বুধবার দিবাগত রাত ১টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত স্থানীয় পালিচড়া বাজারে এই অভিযান চলে। এসময় ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেত্রী নাছিমা জামান ববি ও ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি নেতা মাসুদার রহমান মিলন উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যাব জানায়, সদর উপজেলার সদ্যপুস্করনী ইউনিয়ন পরিষদে দুঃস্থ নারীদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা ভিজিডির পাঁচশ বস্তা চাল ছিল। এই চাল চুরি খবরে পালিচড়া বাজারের ব্যবসায়ী আনসারুলের গুদামে অভিযান চালায় র‍্যাব। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমান চাল। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী আনসারুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানাকে।

অভিযানের সময় উপস্থিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান যুব আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক নাছিমা জামান ববি জানান, বুধবার রাত ৯টায় একটি অটোতে করে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফের চালের ৩০ বস্তা চাল স্টেশন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় নগরীর দর্শনায় স্থানীয়রা আটকে দেয়। খবর পেয়ে চালের বস্তাগুলো তাজহাট থানা পুলিশ জিম্মায় নেয়। এসময় অটোচালক উজ্জলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো বিপুল পরিমাণ চাল পালিচাড়া হাটের কয়েকটি গোডাউনে রাখা হয়েছে তথ্য পায় পুলিশ। বিষয়টি র‌্যাবের নজরে এলে বুধবার দিবাগত রাত ১টায় পালিচাড়া হাটে চাল উদ্ধারে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় তিনটি গোডাউন থেকে ৬০০ বস্তা খাদ্য অধিদপ্তর লেখা চালের বস্তা উদ্ধার করে তারা। এসব বস্তা হতদরিদ্রদের না দিয়ে কালোবাজারে গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল। এসময় র‌্যাব ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা, ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম ও আকমল হোসেনকে গ্রেফতার করে।

উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রদের ভালোভাবে ঈদ করার জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু এক শ্রেণির নীতিভ্রষ্ট জনপ্রতিনিধি তা কালোবাজারে বিক্রি করে অসহায়দের ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছে। এরসাথে অনেক নীতিভ্রস্ট সরকার দলীয় নেতাকর্মী নামধারী ব্যক্তিও আছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

এ ব্যপারে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা  জানান, বুধবার ইফতারের আগ মুহূর্তে চাল বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিছু স্লিপ পাওয়া ব্যাক্তি চাল পায়নি। তাদের বৃহস্পতিবার চাল দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী চেয়ারম্যানের পক্ষে কাজ না করায়, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার জন্য র‌্যাব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করিয়েছেন। আমি ৯টি ট্রাকে ৩ হাজার ১৪৫ বস্তা চাল এনে পরিষদের গোডাউনে গুদামজাত করি এবং তা বিতরণ করি। যেসব বস্তা বাইরের গোডাউনে পাওয়া গেছে তা পরিষদের নয়। উপকারভোগীরা চাল নিয়ে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন। ব্যবসায়ীরা তা কিনে গুদামজাত করেছে।