প্রশ্ন আইভিরঃ এত ভয় কেন ? ধমকে সব সময় দমিয়ে রাখা যায় না

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: ধমকি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরকে থামিয়ে রাখা যাবে না মন্তব্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ধমক দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে এখানে আসা বন্ধ করে দিলেন। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতির কার্ডে নাম দেওয়ার পরও আসলেন না।

এত ভয় কেন? আমি জুয়েলকে বলেছিলাম, তোমরা ৫ জন ছেলেও যদি দাড়িয়ে থাকো, আর কেউ না আসুক আমি আসবো। এত ভয়ের তো কিছু নেই। ধমকি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরকে থামিয়ে রাখা যাবে না। যেমনটা দমিয়ে রাখা যায়নি ১২ বছর আগে আইভীকে। সব সময় দমিয়ে রাখা যায় না।

বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় চাষাড়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের তৃতীয় তলায় সিনামন রেস্তোরায় অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতাদের একাংশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতার শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মেয়র বলেন,আমরা চাই না নারায়ণগঞ্জে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক। তাদের হুশিয়ার করতে চাই, যারা বিভিন্ন সংগঠন দিয়ে সারাক্ষণ হুমকি-ধমকি দিয়েছেন, এটা বন্ধ করেন। এইসব মোটেও উচিত হয়নি আপনাদের।

দু:খ প্রকাশ করে আইভি  বলেন,এমন একটি পরিবেশে স্বাচিপ এর অনুষ্ঠানে আসবো এটা আশা করিনি। কারণ বিগত ১২-১৩ বছর সংগঠনটি আমার হাতে ছিল। মুরুব্বিদের অনুরোধে এই দায়িত্বটি আমি নিয়েছিলাম। তখন একটি ব্যানার লাগানোর লোকও পাইনি। আমার পিয়নকে দিয়ে লাগিয়েছি। সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে আজকের সুবিধাভোগীরা কোথায় ছিল আমি জানি না। শুধু একটি কথাই বলবো আজ যারা বিপদগামী তারা আমার হাতেই গড়া ছিল। কিন্তু কি কারণে কেন এই ডিভিশনটা হলো আমার বোধগাম্য নয়।

আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে আমরা সকলেই নেতা হয়ে যাচ্ছি। যখন দল ক্ষমতায় থাকে না তখন কারা কাজ করে? সকলকে নিয়ে বসে একটি সংগঠন করে দেন। যাতে বিভ্রান্তিতে না পরি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ চায় না চিকিৎসকদের মধ্যে কোনো ডিভিশন থাকুক। চিকিৎসা মানেই তো সেবা করা। আমরা সেবা দিতে আসছি, মানুষকে সেবা দেবো। কিন্তু নিজেদের মধ্যে এই ডিভিশন মোটেও ঠিক না।

স্বাচিপ নেতাদের বিভক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, রাতের আধারে কেন তারা এই কমিটি করবে। যেখানে আমি ও সকল মুরব্বিরা মিলে কমিটি করে দিয়েছি। আজ কেউ কাউকে মানে না। কোনো মুরব্বিকেই তারা তোয়াক্কা করে না। এমন তো ছিল না। এমন তো হওয়ার কথা না। কেন্দ্রের গ্রুপিংয়ের কারণে সারা বাংলাদেশে এমনটা হচ্ছে। তাই প্রথমে কেন্দ্রের গ্রুপিং কমাতে হবে। তারপর এইগুলি বন্ধ করতে হবে।

স্বাচিপ নেতাদের একাংশের সভাপতি ডা. আতিকুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. অলক কুমার সাহা সঞ্চালনায় এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়য়া।

আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, মহানগর আওয়ামী লীগো যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম আরমান প্রমুখ।