রক্তমাখা ব্যান্ডেজঃ ভিক্ষাবৃত্তির প্রতারনা ধরলেন এসআই আজাদ!

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: চোখ, হাত, পা ও মাথা ব্যান্ডেজ দিয়ে মোড়ানো শিশুটি দেখলে মনে হবে গুরুতর কোন দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পাশেই আরেক শিশু বসে কান্না করে পথচারীদের কাছে আহত ছোট বোনের চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা চাচ্ছে। স্বভাবতই আপনি ব্যথিত হৃদয়ে পকেটে হাত দিয়ে কিছু টাকা দিলেন আর শিশুটির এই অবস্থার জন্য আফসোস করলেন।

কিন্তু যদি জানতে পারেন, পুরোটাই সাজানো নাটক। শিশুটি আঘাতপ্রাপ্ত নয়, ব্যান্ডেজ কেবল আপনার সহমর্মিতা পাওয়ার একটা অপকৌশল মাত্র।তখন আপনার সেই ব্যাথিত হৃদয়ের অবস্থা কোন পর্যায়ে কি পৌছবে।

হ্যা, এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ।

ঘটনাটি সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া এলাকায়। অন্য সাধারনের মতোই তিনিও সহমর্মিতার সাথে টাকা দিতেই যাচ্ছিলেন কিন্তু পুলিশের নজর, ব্যান্ডেজ দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তার সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়। সহমর্মিতার ছলেই শিশুটির ব্যান্ডেজে হাত বুলালেন,কিন্তু শিশুটি কোন ধরনের ব্যাথা কিংবা অস্বস্তি বোধ না করায় এসআই আজাদের সন্দেহ আরোগাঢ় হলে ব্যান্ডেজ খুলে দেখেন আহতের কোন চিহ্নই নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন এসআই আজাদ।

সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়ায় ফুটওভার ব্রিজের উপর চার কিংবা পাঁচ বছরের একটি শিশুর চোখ, হাত, পা ও মাথা ব্যান্ডেজ দিয়ে মোড়ানো। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে শিশুটি গুরুতর কোন দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পাশেই আরেকটি শিশু পথচারীদের উদ্দেশ্যে কান্না করছে আর বলছে, আমরা অসহায়, আমাদের কেউ নেই, আমার ছোট্ট বোনটির চোঁখ নষ্ট হয়ে গেছে, হাত ভেঙ্গে গেছে। ওর চিকিৎসা করানো জন্য আপনারা কিছু টাকা দিলেই আমার ছোট্ট বোনটি চোখে দেখতে পাবে এবং হাতটি ভালো করা সম্ভব হবে।স্বাভাবিকভাবেই যে কেউই শিশু দুইটির দিকে তাকিয়ে ভিক্ষা দিয়ে যায়। কিন্তু আসলে শিশুটির কিছুই হয়নি। পুরোটাই সাজানো নাটক। শিশুদের দিয়ে এমন কাজ করান কিছু অসাধু লোক।

গনমাধ্যমকে তিনি বলেন, ঢাকা থেকেে আসা একটি চক্র শিশুদের দিয়ে এমন কাজগুলো করায়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।