বিআরটিসি কাউন্টার ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে পরিবহনখাতে নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজীর কথা উল্লেখ করে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, গত ৬-৭ বছর ধরে ভাঙ্গাচোড়া গাড়ি নিয়ে যারা এই নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করছে, কী পরিমাণ চাঁদাবাজি করছে আমরা এই কথা বলতে পারি। শত শত কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে।আর এই লোভ তারা সামলাতে পারছেনা। এই লোভের কারণেই আজকে তাঁরা বিআরটিসি’র বিরুদ্ধে কাজ করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিআরটিসি সরকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করবে। তাই এসি বাস যেমন থাকবে, নন এসি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়ায় আসতে হবে।

সোমবার (২৭ মে) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে সংগঠনটির আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া মানে হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। যারা রাষ্ট্রবিরোধী এই কাজের সাথে যুক্ত ছিল আপনি পুলিশ সুপার কেন সেই চাঁদাবাজ, মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। সেই চাঁদাবাজদের নাম গণমাধ্যমে এসেছে সেই নামগুলো জানার পরেও তাদের গ্রেফতার করলেন না।

আমাদের মনে তাহলে প্রশ্ন তৈরী হচ্ছে, আপনি যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আজ পর্যন্ত আপনি সেই জায়গাতে কতটা আছেন? কীভাবে সরছেন সেই প্রশ্নটাও আমাদের মাঝে তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই অতিদ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে নারায়ণগঞ্জের মানুষের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যেই আধিকার রয়েছে, সেটা নিশ্চিতের দায়িত্ব আপনি পালন করুন।

তিনি উল্লেখ করেন, গত সাতদিন আগে পরিবহনের একটি দল পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছে। তারা চিঠিতে বলেছে, যদি তাঁদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে ৩০ টাকা ভাড়ায় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকায় যাত্রীদের আনা নেয়া করবে। তাঁর মানে এই নয় যে তাঁরা বিনা লাভে এটা করতে চায়। লাভ করেই এটা করবে।

তিনি আরো বলেন, দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২২ মে যখন বিআরটিসির পরিবহনটি আবার চালু হল তখন কাউন্টারগুলো ভেঙ্গে উঠিয়ে দিয়েছে সেই চিহ্নিত মাফিয়া চাঁদাবাজ গোষ্ঠী। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া মানে হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এটি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি রাষ্ট্রদ্রোহীতা। গণবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী একটি কার্যক্রম।

মানববন্ধনে বিআরটিসি বাসের ভাড়া কমিয়ে এসি ৪৫ ও নন এসি ৩০ টাকা করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। চাষাড়ায় বিআরটিসির কাউন্টার ভাঙচুর করে সরিয়ে দেওয়া দূর্বৃত্তদের অতি দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়।

সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা, নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা নারী সংহতির সভাপতি পপি রাণী সরকার প্রমুখ।