আলীগঞ্জবাসীর খেলার মাঠ দখলের চেষ্টা গনপূর্ত বিভাগের

ফেরত যাচ্ছেন আলীগঞ্জ মাঠ দখলে ব্যর্থ নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি- ছবি: আজকের নারায়নগঞ্জ ডটকম

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): প্রস্তুতি চলছিল সকাল ১০টা থেকেই। আলীগঞ্জস্থ পিডব্লিউডি‘র মালিকানাধীন ১১.৬৭ একর জমির মধ্যে বিরোধপূর্ণ ৪.৭০একর জমি দখলে নেয়ার প্রস্তুতি। যাতে এলাকাবাসী প্রায় ৪০ বছর যাবত খেলাধূলা করে আসছে।

একটি মহল প্রধানমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে একনেকে পাশ করিয়ে নেয়ার অজুহাতে উন্মুক্ত খেলার মাঠটি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ইটপাথরের ভবনে রূপ দিতে চায় নিজেদের ফায়দা লুটার স্বার্থে। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রতিজ্ঞা হচ্ছে রক্ত দেব তবু মাঠ দেবো না। তাদের দাবী সরকারী উদ্যোগে এটাকে অন্তত: একটা মিনি স্টেডিয়ামে রূপ দেয়া হউক।

কিন্তু নাছোড়বান্দা সেই গ্রুপটি দফায় দফায় ফতুল্লার পাগলায় আলীগঞ্জ খেলার মাঠ দখলের মিশন চালিয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার(২৬মে) সকাল থেকেই ব্যাপক আয়োজনে চেষ্টা শুরু করে মাঠটি দখলের। গনপূর্ত বিভাগ নারায়নগঞ্জের নির্বাহি প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেনের তত্বাবধানে জেলার নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ফতুল্লা অঞ্চলের এসিল্যান্ড রেজোয়ান আহমেদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক-সার্কেল)মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী,ওসি আসলাম হোসেন,ওসি(তদন্ত) হাসানুজ্জামানসহ পুলিশের ৪০জন সদস্য এবং র‌্যব-১১এর ৮সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।

অভিযানে এসে বেলার ১২টায় প্রথম দফায় মাঠের প্রধান ফটকে এলাকাবাসীদের তোপের মুখে থমকে দাড়াতে উচ্ছেদ অভিযানে সেই ভ্রাম্যমান আদালতকে। এলাকাবাসীর সাথে বাকবিতন্ডা চলে। এক পর্যায়ে জোরপুর্বক মাঠে প্রবেশের চেষ্টা চালালেও পেছনের সারিতে মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্র্থীদের সারি দেখে আর সামনে এগুতে না পেরে এক পর্যায়ে ফিরে যেতে উচ্ছেদ অভিযানকারী দলকে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্রছাত্রীদের বাধার মুখে পড়ে উচ্ছেদ অভিযান না চালিয়ে চলে যান তারা৷ তবে প্রথম দফায় অভিযান বন্ধ রাখলেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ফের অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজোয়ান আহমেদ৷

স্থানীয় বাসিন্দা ও আলীগঞ্জ ক্লাবের সহ সভাপতি ফরিদউদ্দিন আহমেদ, এই মাঠ আমাদের প্রাণের মাঠ, মাঠ রক্ষা করা আমাদের প্রাণের দাবি৷ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিটা উপজেলায় একটা করে খেলার মাঠ থাকতে হবে৷ আমরা সেই কথার বাস্তবায়ন চাই৷

তিনি আরো জানান,পোস্তগোলা থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত এটা ছাড়া উন্মুক্ত কোন মাঠ নেই৷ এই মাঠ ঐতিহ্যবাহী মাঠ৷ এ মাঠ আমার সন্তানের জন্য, এটা দখল করতে দেয়া যাবে না।