চাষাঢ়ায় বিআরটিসি কাউন্টার উচ্ছেদ ,মেট্টোহল কাউন্টারে তালা

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: প্রায় দুই বছর পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (লিংক রোড) রুটে পুনরায় চালু হয়েছে সরকারি পরিবহনের বিআরটিসি এসি বাস। এই সার্ভিসটি ২২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দল কাদের। কিন্তু কি হলো ?

উদ্বোধনের একদিন পরই বাসের কাউন্টার বসাতে বাধা সৃষ্টি করছে নারায়ণগঞ্জ বাস মালিক ঐক্য সমিতির লোকজন। চাষাড়ায় কোনো ধরণের কাউন্টারই বসতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মেট্রো হলের সামনের কাউন্টারটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে

শনিবার (২৫ মে)সকাল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাড়ায় বেসরকারি এসি বাস শীতল ও নন এসি বাস হিমাচল পরিবহনের কাউন্টারের মাঝামাঝি স্থানে অস্থাায়ী কাউন্টার বসানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাস ও মিনিবাস পরিবহন মালিক সমিতির লোকজন এসে বাধা দেয়।

সরেজমিনে চাষাড়া গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (লিংক রোড) রুটে অন্যান্য বাসের কাউন্টার  বহাল থাকলেও বিআরটিসি এসি বাসের টিকেট কাউন্টারের জন্য বসানো একটি টেবিল ফাঁকা পড়ে আছে।

খোঁজ নিলে জানা যায়, এই রুটে চলাচলরত অন্যান্য বাস সার্ভিসের লোকজন এসে বিআরটিসি কাউন্টারে গিয়ে টিকেট বিক্রেতাকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পাশেই অপর একটি বাসের সুপারভাইজারের কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিআরটিসি বাস কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতা চলে গেছে। যাবার সময় বলেছে, অন্য কাউন্টারের লোকজন তাকে লাঞ্ছিত করছে। ছাতা ফেলে দিয়েছে। মারধর করেছে। সে টিকতে পারছে না তাই চলে গেছে। যাবার সময় বলে গেছে টেবিলটি দেখে রাখার জন্য।

নারায়ণগঞ্জের বিআরটিসি ডিপো ম্যানেজার জেডএ কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে কয়েক দফা কাউন্টার বসানোর চেষ্টা করা হলেও বাস ও মিনিবাস পরিবহন মালিক সমিতির লোকজন এসে বাধা দেয়। জিলানী ও দিদারসহ আরো কয়েকজন এসে অস্থায়ী কাউন্টারের ছাতা উপড়ে ফেলে ও টেবিল ভাঙচুর করে। এছাড়া কাউন্টারে থাকা টিকেট বিক্রির লোকজনকেও মারধর করে। এর আগে শুক্রবারও একইভাবে কয়েক দফা বাধা দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান,এ ব্যাপারে এসপি সাহেবকে জানানো হয়। শনিবারও কাউন্টারের লোকজনকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। আমরা ডিসি সাহেবকে জানিয়েছি। থানাতেও অভিযোগ দেব।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যা জনগণের। অথচ একটি শ্রেণি এটি চলাচলে বাধা দিচ্ছে। এভাবে বাধা সৃষ্টি করলেতো এ রুটে বাস সার্ভিসটি চলতে পারবে না।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন জানান, চাষাড়ায় আগে বিআরটিসির যে স্থানে কাউন্টার ছিল এবার সেখানে তারা বসায়নি। বরং তারা এমন এক স্থানে কাউন্টার রেখে বাস পার্কিং করছিল যাতে যানজট সৃষ্টি ও অন্য বাসগুলোর সমস্যা হচ্ছিল। সে কারণে আমাদের সকল পরিবহনের লোকজন গিয়ে বিআরটিসির লোকজনদের অনুরোধ করেছে যেন তাদের আগের কাউন্টারের স্থলেই নতুন করে কাউন্টার বসানো হউক। কিন্তু সেটা করা হয়নি।

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, এ ব্যাপারটি আমার জানা নেই। কোনো অভিযোগও পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইও-২) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে ট্রাফিকের এএসপিকে নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ সুপার মহোদয়। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে জেলা ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ আহমেদ গনমাধ্যমকে জানান, বিআরটিসি প্রথমে যে স্থানে কাউন্টার বসাতে চেয়েছিল সেখানে বসালে যানজট হতো। পরে তাদের আমরা অন্যত্র কাউন্টার বসানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। নতুন করে মারধর ও বা উচ্ছেদে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।