‘বাংলার সিংহাম’ হোচট খাচ্ছে ফতুল্লায়!

 

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: ইতিমধ্যে ‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি পেয়ে গেছেন নারায়নগঞ্জ জেলা পুলিশের দায়িত্বে থাকা এসপি হারুন অর রশীদ পিপিএম-বিপিএম(বার)। তার কাজের মূল্যায়ন করেছেন মন্ত্রী-এমপিসহ নারায়নগঞ্জবাসী। তাকে সিংহপুরুষ হিসাবে আখ্যায়িত করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানারও সাটানো হয়েছে।

কিন্তু ডায়নামিক পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ এর গতির সাথে তাল মেলাতে পারছে না ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। নারায়নগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ চমক সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও বেশ পিছিয়ে রয়েছে ফতুল্লা পুলিশ ।

গত এক মাসের প্রতিবেদন বিশ্লেষন করলে দেখা যায়,সদর ও বন্দর থানার চাঁদাবাজি মামলায় শহরের দুই মহারথী ভূমিখেকো বলে পরিচিত আল জয়নাল ওরফে জয়নাল আবেদীন ও ডিশ সন্ত্রাসী কাউন্সিলর আবদুল করিম ওরফে ডিশ বাবুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদেরকে গ্রেফতারের পর পরই আরো কয়েকটি চাঁদাবাজি,ডাকাতি,সন্ত্রাসী মামলা দিয়ে কারাজীবন দীর্ঘায়িত করায় বেশ স্বস্তিতেই ছিল জনজীবন। সম্প্রতি এরা জামিনে মুক্তি পেলেও অপরাধীদের মনে ভয় পাইয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মনে অবশ্য আতঙ্ক কাজ করবে এ পুলিশ সুপার যতদিন নারায়নগঞ্জের দায়িত্বেথাকবে।

এর পেছনে অবশ্যই সেই ডায়নামিক পুলিশ সুপারের নেতত্বে কাজ করছে সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ।

এর আগে কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করেছিল সদর থানা পুলিশ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে সেই এসপি হারুনের গতির সাথে কেন তাল মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ? তাহলে কি এসপি হারুনের নিয়ন্ত্রনের বাইরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এর আগে ফতুল্লার আলোচিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা  মীরু,কুতুবপুরের এমপি হিসাবে পরিচিত টেনু গাজীকে গ্রেফতারসহ কারাবন্দী করতে সক্ষম হলেও মডেল থানা পুলিশ তেমনভাবে তাল মেলাতে পারছে না বলে এলাকাবাসীর ক্ষোভ।

কারন ফতুল্লা মডেল থানায় সচিব পেটানোর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে সদর উপজেলার আলোচিত ভাইসচেয়ারম্যান লিংকরোডের চাঁদাবাজির সম্রাট ভূমিদস্যু হিসাবে পরিচিত সেই নাজিমউদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে। পুলিশ পেটানোর অভিযোগ রয়েছে আলীগঞ্জের নব্য আওয়ামীলীগার হিসাবে পরিচিত সন্ত্রাসী মনির উদ্দিন,বক্কর মেম্বার,আলী আমজাদ, জালাল,মোক্তার,তনুসহ অনেকের বিরুদ্ধে।
কিন্তু জানা গেছে, মনিরউদ্দিনকে ঘটনার দিন গ্রেফতার করলেও তাকে ছেড়ে দেয়ার পর পুলিশ পেটানোর মামলাটি দায়ের করা হয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে। কিন্তু আসামীদের ছেড়ে দেয়ার জামিন নিতে সুযোগ করে দেয়া হয় রহস্যজনক কারনে। জামিন পেয়ে মনিরউদ্দিনগং এলাকায় দাপট দেখাতে ব্যস্ত যে,পুলিশ পিটিয়েও তাদের কিছু হয়নি।সুতরাং এলাকাবাসী সাবধান।
সেই পুলিশ পেটানো মামলা থেকে রেহাই পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে মনিরউদ্দিন-বক্করগং। সেই সুযোগে ১৬মে রাতের এক ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষিতার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতেও দ্বিধাবোধ করেনি সেই গ্রুপটি।
১৯মে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এলাকায় ছড়িয়েছে ধর্ষনের ধামাচাপা ঘটনায়ও তাদের কিছু হচ্ছে না। ফলে ধর্ষিতার পিতাকে হুমকী দিয়ে বক্তব্য পাল্টাতে প্রভাবিত করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও সচিব পেটানো মামলার আসামী সন্ত্রাসী নাজিমউদ্দিন ও তার সহযোগিদের গ্রেফতার না করে তাদেরকেও জামিনের সুযোগ করে দেয়া হয়। সেই সুযোগে আবারো এলাকায় তাদের দৌরাতেœ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে সেখানেও।
ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের সাথে অশালীন আচরনেরও অভিযোগ উঠেছে নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও দুর্দান্ত প্রতাপে অব্যাহত রয়েছে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ লিংকরোডে চাঁদাবাজির মহোৎসব।
এ সকল ব্যাপারে বরাবরই ব্যর্থতার দায় অস্বীকার করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি বলে আসছে,আসামীরা জামিন নিয়ে আসায় তাদের করার কিছু নেই। এছাড়াও ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা প্রসঙ্গে ওসির বক্তব্য ছিল,সালিশে বনিবনা না হওয়ায় থানায় অভিযোগ করেছে ধর্ষিতার পিতা। এ ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে।
ফলে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছে যে,এরা এত অপরাধ করেও রেহাই পেয়ে যাচ্ছে তাহলেতো সামনে আরো বড় ধরনের অপরাধ করতে উৎসাহ পাবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।