শিশু শ্যালককে খুনের ঘটনায় দুলাভাইয়ের মৃত্যুদন্ড

আজকের নারায়নগঞ্জঃ শ্যালক রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুলাভাই মহিউদ্দিন হাসনাত ও তাঁর সহযোগি সাইফুলকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছেন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত।

মামলায় এজাহারকারি, ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তারসহ ১৩ জন ও আসামী পক্ষে ৩ জন সাফাই সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা রেকর্ড পর্যালোচনা করে দুলাভাই মহিউদ্দিন হাসনাত ও তাঁর সহযোগি সাইফুলকে দোষী সাব্যস্ত করে সোমবার (০২ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মুহম্মদ রবিউল আউয়াল ওই রায় প্রদান করেন।

রায় প্রদানকালে আসামী মহিউদ্দিন হাসনাত আদালতের কাঠগাড়ার উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামী সাইফুল জামিনের পর বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

রাষ্ট পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. কে এম ফজলুর রহমান। এবং আসামী পক্ষের আব্দুল বারী ভুঁইয়া।

রায় প্রদানের পর সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নিহত রিফাতের বাবা তোফাজ্জল হোসেন। তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন এবং এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১০ আগষ্ট মহিউদ্দিন ও তাঁর সহযোগি ঢাকা থেকে অপহরণ করে এনে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের নাভানা টাওয়ারে এনে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ফেলে যায়। পরে লাশটি অজ্ঞাত হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ উদ্ধার কের। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের এসআই জামাল হোসেন বাদি হয়ে আজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপরই মামলার তদন্তকালে রিফাতের দুলাভাই মহিউদ্দিন হাসনাত ও তাঁর সহযোগি সাইফুল আটক হয়। এবং এ হত্যার দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

জবানবন্দিতে দুলাভাই মহিউদ্দিন হাসনাত জানিয়েছিলেন, তাঁর শাশুড়ি তাঁকে ঝাড়ু– পেটা করায় এর প্রতিশোধ নিতে ভাড়াটে খুনি সাইফুল গংদের সহযোগিতায় ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে রিফাত (১২ কে অপহরণ করে হত্যা করে।
মামলার এজাহার ও পরিবারসূত্রে জানা গেছে, নলছিটির ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন তার একমাত্র ছেলে রিফাতকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরের ২ নম্বরে মনিপুরী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসববাস করতেন। সেখাানে তার মেয়ে ও জামাতা মহিউদ্দিন হাসনাত । সেখানে জামাতার সাথে শ্বাশুড়ির কথা কাটাকাটির জের ধরে জামাতাকে ঝাড়ুপেটা করেন শ্বাশুড়ি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামাতা হাসনাত ভাড়াটে খুনীর মাধ্রমে ২০১২ সনের ১০ আগষ্ট তারিখে শ্যালক ছোট শিশু রিফাতকে কৌশলে অপহরন করে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে এনে গলা কেটে খুন করে।