মেঘনার পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করতে বিআইডব্লিউটিএ‘র অভিযান চলছে

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: মেঘনার পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছেই বিআইডব্লিউটিএ‘র। ছয়দিনব্যাপি উচ্ছেদ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদী দখল করে গড়ে তোলা আব্দুল মোনায়েম গ্রুপের সুগার রিফাইন মিলের ৫শ’ফুট সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কতৃপক্ষ।

একই সাথে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় নদী দখল করে জাহাজ নির্মাণ শিল্প সম্প্রসারণ করায় ইউনিক গ্রুপের প্রায় ৭লক্ষ বর্গফুট ভরাট বালু জব্দ করে নিলামে তুলে ২৯ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ভরাটকৃত জায়গা ভেকু দিয়ে খনন করে নদী দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

বুধবার (২২ মে) সকাল ১০ টায় নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এবং নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলীর তত্ত্বাবধানে বিআইডব্লিউটিএ তৃতীয় দিনের মতো এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এ সময় নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মো.শহীদুল্লাহসহ টেকনিক্যাল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, নদী দপ্তরের অনুমোদন থাকলেও এই দুই শিল্প প্রতিষ্ঠান সরকারি আদেশ ভঙ্গ করে নদীর নির্ধারিত জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণসহ নদীর বিরাট অংশ ভরাট করে ফেলেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারী বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, আমান ইকোনোমিক জোনসহ বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হবে।

গুলজার আলী উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার নদী কমিশনের চেয়ারম্যান বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন মেঘনা নদী পরিদর্শন করে মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, আমান ইকোনোমিক জোন, ইউনিক গ্রুপ, আল মোস্তফা গ্রুপের পলিমার ইন্ড্রাস্ট্রিজসহ বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানের নদী দখলের প্রমাণ পেয়েছেন। তারই আলোকে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদীর নির্ধারিত সসীমানার অভ্যন্তরে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে নদী দখল করেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মেঘনা নদীতে আরো দুই দিন অভিযান চালিয়ে ছয়দিন ব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযান সমাপ্ত করা হবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গললবার বৈদ্যেরবাজার এলাকায় মেঘনা নদীর পশ্চিম তীর দখল করে গড়ে তোলা আল মোস্তফা গ্রুপের ৪ তলা ভবন গুড়িয়ে দেয় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নদী দখল করে ডকইয়ার্ড সম্প্রসারণ করায় ইউরো মেরিনশিপ বিল্ডার্স নামের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।