মান্দায় কুসুম্বা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

 

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় কুসুম্বা ইউ’পি চেয়ামম্যানের বিরুদ্ধে ইজিপিপি কর্মসূচীর ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে “অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর” ২য় পর্যায়ে ৮ নং কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ওই কর্মসূচী কাজের জন্য ১৮৮ জন শ্রমিক কাজ করার বিধান রাখা হয়েছে।

কিন্তু কুসুম্বা ইউপির চলমান প্রকল্পে বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক। অথচ, প্রতিনিয়ত চেয়ামম্যানের যোগসাজশে ১৮৪ বা ১৮৮ জন শ্রমিকের কাজের মুজুরী উত্তোলন করা হয়।

বাঁকি ১০৬ অথবা ১০৮ জন শ্রমিকের টাকা আত্মসাত করেন চেয়ামম্যান নিজেই।তার বিরুদ্ধে রয়েছে ইজিপিপি কর্মসূচীর ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।বিষয়টি কুসুম্বা ইউপির একাধিক এলাকার সচেতন নাগরিকরা মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুশফিকুর রহমান এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল ইসলামকে মৌখিক ও মোবাইল ফোনে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান তারা।

কর্মসূচী কাজের অনিয়ম ২০১৬ সাল থেকে বর্তমানে ও চলমান রয়েছে। ইতিপূর্বে প্রায় ৫ বারে মোট ৪০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্নসাত করা হয়েছে। বিশেষ করে গত ১৬ মে তারিখেও অত্র প্রকল্পের ১৫ দিনের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এসব দূর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে কুসুম্বা ইউপি চেয়ামম্যান নওফেল আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন রাজশাহী বিভাগীয় কার্য্যালয় এবং জেলা প্রসাশক নওগাঁ বরাবর দু’টো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এব্যাপারে কুসুম্বা ইউপি চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা,বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। আমি ইউপির কোনো কাজে স্বজ্ঞানে অনিয়ম করিনাই। আমি মান সম্মানের ভয়ে সব সময় সঠিকভাবে নিয়মনীতির আলোকে কাজগুলো সম্পন্ন করার পাশাপাশি কাজগুলো সঠিকভাবে কাজগুলো হচ্ছে কি না সেসব মনিটরিং করে থাকি। এমনকি কর্মসূচীর কাজের লোকদের পারিশ্রমিক সঠিক নিয়মে বন্টন করা হয়।

মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, চলতি বছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কাজ সঠিক নিয়মেই হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। আমি নিজেও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কাজগুলো তদারকি করে আসি। যাতে করে কাজে কেউ ফাঁকি দিতে না পারে। আর যদি কেউ কোনো কাজে অনিয়ম করে থাকে তাকে কোনো ভাবেও ছাড় দেয়া হবেনা। তবে এ ব্যাপারে আমার অফিসে এখন পর্যন্ত লিখিত অথবা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন নাই।সুতরাং আমি এসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানিনা এবং অভিযোগকারীদেরকেও চিনি না।

এব্যাপারে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই । তবে এবিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেন নাই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।