মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র উপেক্ষাঃ নওগাঁর মান্দায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র উপেক্ষা করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মান্দা এসসি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করেন। অব্যাহতি গ্রহনের পর নিয়ম অনুযায়ী প্রধান জৈষ্ঠ্য শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ এর দায়িত্ব পালন করবেন।
অথচ,সেটা উপেক্ষা করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১ম জৈষ্ঠ্য সমরেশ মজুমদার স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহনের পর ২য় জৈষ্ঠ্য মাহবুব আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক/ অধ্যক্ষের দাবিদার। কিন্তু ২ জৈষ্ঠ্য মাহবুবুল আলমের নিষ্ক্রিয়তার কারনে ৩য় জৈষ্ঠ্য শাহজাহান দাবিদার। অথচ উক্ত প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দরা কৌশল অবলম্বন করে ৪র্থ জৈষ্ঠ্য শিক্ষক রুস্তম আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বে বসিয়ে নিয়োগ বানিজ্যের পায়তারা করছে।

এঘটনায় গত ২০১৮ সালের ৯ মে নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর শাহজাহান আলী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, আমি এই অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি, এজন্য আমাকে পূর্ব নোটিশ ব্যাতিরেকে কোন কারন ছাড়াই আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এব্যাপারে আমি আদালতের সরনাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করায় আদালত আমাকে যথারিতিভাবে বিদ্যালয়ে পূর্বের ন্যায় সকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন কে করবেন সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর কলেজ পরিদর্শক পত্রে উল্লেখ করে বলেন, সমরেশ মজুমদার সেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ায় পরবর্তী জৈষ্ঠ্য শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দ্বায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু তাতেও কোন ফল হচ্ছেনা। সবকিছুকে উপেক্ষা করে জুনিয়র শিক্ষক রুস্তম আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দ্বায়িত্বে বসিয়ে নিয়োগ ব্যাণিজ্যের পায়তারা করছে। এই অবৈধ নিয়োগের কারনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অবিভাবক মন্ডলীদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোবারুল ইসলাম বলেন, মান্দা এসসি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ পদে রুস্তম আলী নামের একজন শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান আলী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।