আলীগঞ্জে ৬ বছরের শিশু ধর্ষনের ঘটনাঃ ২০ হাজারে এলাকা ছাড়া!

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): ফতুল্লার আলীগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত কালু মিয়া(৪০) আলীগঞ্জ এলাকার দিলা ফকিরের ছেলে। সে তার গ্যারেজে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষন করে।

ধর্ষনের শিকার শিশুটির বাবা নূরনবী  শনিবার (১৮ মে) ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে এলাকায় বিচার শালিশ বসায় স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ।

ফায়সালা করেন ২০হাজার টাকায় একটি সাদা কাগজে সইও করান তারা। চিকিৎসার কথা বলে নগদ ১৫ হাজার টাকা দেন শিশুটির বাবা-মা ও খালুর হাতে। ধর্ষক কালু মিয়া স্থানীয় হওয়াতে ভয়ে কিছুই বলেননি শিশুটির পরিবার।

সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখার পর এলাকা ছাড়তে বলেন বিচার শালিশ করা সেই প্রভাশালীরা। পরে তারা তাদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে তার ভাইয়ের বাসায় তাৎক্ষনিক চলে যান।

অভিযোগে জানা যায়,  স্ত্রী সন্ত্রান নিয়ে ফতুল্লার আলীগঞ্জে শাহেন শাহের বাড়িতে ভাড়া থাকেন ভোলার লালমোহন থানা এলাকার নূরনবী । সেখানেই একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরীতে চাকরি করেন নূরনবী।  সাদিয়া আক্তার নামে ৬ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে তার।

গত ১৫ মে বুধবার রাত ৮ ঘটিকার সময় আমি পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় নুরনবী তার মেয়েকে বাসার সামনে খেলা করতে দেখে যায়। নামাজ শেষে বাসায় এসে  মেয়েকে কান্না করতে দেখে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে সে ঘটনা জানতে পারে।

অভিযুক্ত কালু মিয়া আলীগঞ্জ এলাকার দিলা ফকিরের ছেলে। আমার মেয়ের পড়নে কাপড়-চোপড় রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তাৎক্ষণিক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করাই।

শিশুটির মা রেশমা বেগম জানান বুধবার রাতে সাদিয়া বাড়ির সামনে খেলা করছিল এর কিছুক্ষন পর দেখি নেই,সাদিয়া বাড়িতে আসলে একদম চুপ-চাপ দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে । আমি ডাকলেও কাছে আসছে না,পরে আমি জানতে চাই কি হয়েছে । তখন কিছুই বলে না তখন আমি এবং সাদিয়ার বাবা রাগ হই। হঠাৎ দেখি সাদিয়ার পড়নে থাকা লেহেঙ্গাটি রক্তমাখা।

তখন মেয়েকে আবার জিজ্ঞেস করার পর বলে আমাকে কালু কাকা গ্যারেজে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। পরে জোরপূর্বক ধর্ষন এর বর্ণনা দেয় শিশুটি। তার বর্ণনামতে রাত সাড়ে ৮টার সময় মেয়েকে বাসার সামনে খেলতে দেখে ডেকে নিয়ে যায় কালু মিয়া। ,সেখানে তার রিক্সার গ্যারেজে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে।

বিষয়টি সাথে সাথেই বাড়ির মালিক আকরাম সাহেবকে জানায় ধর্ষিতার পিতা নুরনবী। তখন তিনি বিচার করার আশ্বাস দেন,কালু মিয়াকে ডেকে এনে মারধরও করেন। বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে এলাকায় বিচার শালিশ বসায় স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ।

ফায়সালা করেন ২০হাজার টাকায় একটি সাদা কাগজে সইও করান তারা। চিকিৎসার কথা বলে নগদ ১৫ হাজার টাকা দেন শিশুটির বাবা-মা ও খালুর হাতে। ধর্ষক কালু মিয়া স্থানীয় হওয়াতে ভয়ে কিছুই বলেননি শিশুটির পরিবার।

সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখার পর এলাকা ছাড়তে বলেন বিচার শালিশ করা সেই প্রভাশালীরা। পরে তারা তাদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে তার ভাইয়ের বাসায় তাৎক্ষনিক চলে যান।

এমন একটি ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কারনে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানান তিনি।