৫২বছর পরে কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়া,বিদায় স্পেনের

ক্রীড়া ডেস্ক : স্বাগতিকদের জুজু কাটাতে পারল না স্পেন। সেই ১৯৩০ সাল থেকে শুরু। ২০১৮ সালে এসেও স্বাগতিক জুজু পিছু ছাড়েনি স্পেনের। এবার স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে।

তাতে ৫২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে তলানিতে থাকা রাশিয়া। সবশেষ তারা ১৯৬৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। তখন অবশ্য তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল। রাশিয়ার এটাই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল।

আজ স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে হারার আগে ২০০২ সালে সহ-আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল স্প্যানিশরা। ১৯৫০ সালে ফাইনাল রাউন্ডে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে ৬-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। তার আগে ১৯৩৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইতালির কাছে প্রথমে ১-১ গোলে ড্র করে। ফিরতি ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে যায় বিদায় নেয় স্পেন।

রোববার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১১ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিক রাশিয়া। এ সময় ফ্রি ডি বক্সের ডানপ্রান্তে ফ্রি কিক পায় স্পেন। কিক নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্জিও রামোসকে নিয়ে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাশিয়ার সার্জি ইগনাশেভিচ। বল তার পায়ে লেগে জালে জড়ায়। আর স্পেন যায় এগিয়ে। ৪০ মিনিটের সময় পেনাল্টি পায় রাশিয়া। এ সময় ডি বক্সের মধ্যে জেরার্ড পিকের হাতে লাগে বল। রেফারি ভিএআর না দেখেই পেনাল্টি দেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান রাশিয়ার আর্তেম জুবা।

এই সমতা নিয়ে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে হয় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সেখানেও ভাঙে না সমতা। রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধেও সমতা ভাঙেত পারেনি কেউ। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায়। সেখানে স্পেনের কোকে ও আসপাসের নেওয়া কিক ফিরিয়ে দেন রাশিয়ার গোলরক্ষক ইগোর আকিনফেভ। তাতে ৪-৩ ব্যবধানে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় রাশিয়া।

ম্যাচসেরা হন রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফেভ। তিনি বলেন, ‘ম্যাচসেরা আমি নই। ম্যাচসেরা রাশিয়ার সমর্থকরা। ম্যাচসেরা রাশিয়ার গোটা ফুটবল দল।’