ঝিমিয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি

দলীয় কোন্দল মামলা হামলার আতঙ্কে ঝিমিয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। নেতারা মাঠে নেই প্রাণহীন এ জেলার রাজনীতি। নেতারা নিষ্কৃয় থাকায় নীরব দলের কর্মী সমর্থকরাও। গ্রেফতার আতঙ্কে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মাঠে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে সরকারী দলের ক্ষমতাশীল অনেক নেতারা দীর্ঘ দিন ধরে রয়েছেন মাঠের বাহিরে। এ নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের অন্ত নেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা এখন তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের দেখা যায় না।

ফলে বর্তমান রাজনীতি এখন অনেকটাই নিষ্কিয়। তাছাড়া ২০ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল অধিকাংশ নেতা এখন মামলা আর গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন অনেকটা আত্মগোপনে। আর অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধের অস্থিরতায় নিষ্পেষিত হচ্ছে ১৪ দলীয় জোটের আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম। এ সকল কারণেই হঠাৎ থমকে গেছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি।

জানা যায়, দলের হাই কমান্ডের ওপর মান অভিমানে জেলার বেশ কয়েকজন নেতা রাজনীতিতে রয়েছেন নিস্কিয়। নিজ নিজ দলের স্থানীয় এ সকল জনপ্রিয় নেতারা রাজনীতির মাঠে না থাকায় তাদের সমর্থক ও কর্মীরা হতাশায় ভুগছেন। এদিকে নেতাদের অনেককেই কোণঠাসা করতে রাখা হয়েছে দলের মূল ¯্রােতের বাহিরে। আবার কেউ কেউ নিজ দলের গ্রুপিং দ্বন্ধ কিংবা প্রতিপক্ষের হামলা মামলায় নাজেহাল হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না মাঠে।

বিএনপি, জাতীয়পার্টি, আওয়ামীলীগের কয়েকজন জনপ্রিয় প্রভাবশালী নেতারা অনেকটাই রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। আবার অনেকেই মাঠে আছেন ভক্ত ও সমর্থকদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে। শুধু একারণেই অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার বড় ৩টি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম।

স্থানীয় নেতা কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় এ নেতারা মাঠে না থাকায় এখন দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো পালিত হয় অনেকটাই লোক দেখানো জন্য। এদের শূন্যতা তৃণমূলের নেতারা উপলব্ধি করলেও টনক নড়ছে না দলীয় হাই কমান্ডের। দলের নিবেদিত কর্মীদের দাবি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এ সকল নেতারা মাঠে থাকলে কর্মী সমর্থকরা আরো উজ্জীবিত হয়ে মাঠে থাকতেন। এরা না থাকায় অনেকটা প্রাণহীন জেলার রাজনীতি। স্থানীয় অনেক নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ কালে তারা তাদের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন।

তারা বলেন, ওই সকল নেতারা তাদের নিজ গুণ আর কর্মে ঠাঁই পেয়েছেন মানুষের অন্তরে। এদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধে অনেকটা কোণঠাসা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহআলম। জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ টি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান দলীয় কর্মসূচী প্রদানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অস্তিত্বের বিষয়টি দেশবাসীর কাছে তুলে ধরলেও বাকিরা নিরব ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এর মধ্যে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা দলীয় কর্মসূচী পালনে যোগ্যতার প্রমাণ দেখালে জাতীয় পার্টির অপর সাংসদ সেলিম ওসমান অন্যদিকে মন দিয়ে রয়েছেন। তাই আগামী জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি সরব হবে এমনটাই প্রত্যাশা নারায়নগঞ্জের সর্বস্তরের রাজনৈতিক মহলের।