যে মামলায় খালেদা জিয়া বন্দী তার কোন এভিডেন্স নেই – এড.জয়নুল

রাজনৈতিক ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড.জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা, বানোয়াট এবং একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলায় জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে তার কোন এভিডেন্স (প্রমাণ) নেই। এটা অন্যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আমরা সংগ্রাম করেছি। এপর্যন্ত ৩৭টি মামলা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়েছে। আমরা একটা একটা করে সমস্ত মামলায় জামিন নিয়েছি। প্রতিটি মামলায় আমাদের হাইকোর্টে যেতে হয়েছে। নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়াকে আমরা বের করতে পারলাম না, এতে চেষ্টার কোন রকমের ত্রুটি ছিলোনা। এক মামলায় জামিন করি তো আরেক মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখায়। এটা অনেক দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।’

নারায়নগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম  আয়োজিত খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ও তার শারীরিক সুস্থতা কমনা করে বিশেষ দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

সোমবার (১৩ মে) বাদ আছর নতুন কোর্টের বিপরীত পাশে হিমালয় চাইনিজ কমিউনিটি সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড.সরকার হুয়ায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড.জয়নুল আবেদীন, প্রধান বক্তা ছিলেন সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড.এ.এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন ।

বেগম জিয়ার বরাত দিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘খালেদা জিয়া একটি কথাই বলেছেন আমাদের সেটি হচ্ছে আপনারা আইনগত ভাবে লড়বেন। তিনি বলেছেন, এই সরকার খুব বেশিদিন আমাকে আটকে রাখতে পারবে না। বেগম জিয়ার অনেক শক্ত মনোবল, তিনি এতোটকু বিচলিত নন। তিনি ঘাবড়েও যাননি। নেত্রী চান, আপনারা আমরা মিলে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে এবং সারাদেশের জণগণের আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি বেড়িয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির কথা বেগম খালেদা জিয়া অতীতেও প্যারলে মুক্তির চিন্তা করে নাই, আর এখনো এ স্বৈরশাসকের আমলেও বেগম জিয়া প্যারলের কথা চিন্তা করেনা। আমরা মামলা লড়ছি। কিছুদিন আগে আমাদের কিছু সংসদ সদস্য, সংসদে যোগ দিয়েছেন অনেকে ভেবেছেন সরকারের সাথে মনেহয় বেগম জিয়ার চুক্তি হয়ে গেছে। বোধ হয় প্যারোলে চলে যাবেন। কিন্তু আমরা সকলকে নিশ্চিত করতে চাই আমাদের সাথে এমন কোন আলোচনা হয় নাই। আমরা আইনগতভাবে লড়ছি এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনগতভাবেই হবে। আপনারা সবাই প্রস্তুত থাকুন।’

প্রধান বক্তা এড.এ.এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভোট চুরিতে বিশ্বাস করে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি কতখানি জনপ্রিয়। এই রমজানে আওয়ামীলীগ নেতাদের উচিৎ মিথ্যা কথা বন্ধ করা এবং ভোট চুরির জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রীর জামিন হয় কিন্তু তিনি বেরুতে পারেননা। দেশের সবার জন্য এক আইন আর তার জন্য অন্য আইন। একদেশে দুই আইন থাকতে পারেনা। এই দুর্নীতিবাজ সরকার জানে খালেদা জিয়া বের হলে ওইদিনই এই সরকারের পতন হবে তাই প্রতিহিংসায় তারা এমন করে। আজ খালেদা জিয়ার মুক্তির পক্ষে গণদাবি তৈরি হয়েছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এড.সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুস্বাস্থ্যে কামনা করে। এই ইফতার মাহফিল আয়োজনে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে আপনারাই তাদের বিচার করবেন। আমাদের এইদেশে কোন গণতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার, আইনের শাসন নেই। বিরোধী দলের নেতাদেও যেনতেনভাবে হয়রানি করা হয়। আমি এই আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি অথচ আমার জামিনও নামঞ্জুর করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে যেতে পারিনাই। জেল খাটতে হয়েছে। এটাই সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে একটি আন্দোলন গড়ে তুলবো যাতে এই সরকার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।’

সভাপতির বক্তব্যে সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, ‘যারা আজকের ইফতার মাহফিলের বিরোধীতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ। আমরা কোন দালালী পছন্দ করিনা। যারা দালালি পছন্দ করেন তারা তাদের দালালী নিয়েই থাকেন।’

জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এড. খোরশেদ আলম মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি এড.খন্দকার আজিজুল হক হান্টু, এড.এমএ বাতেন, এড.সিরাজ, এড.কামরুন্নাহার, সহসভাপতি মশিউর রহমান শাহীন, রাকিবুল হাসান শিমুল, বেনজির আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক এড.কামাল, এড. আনোয়ার প্রধান, এড. আবুল কালাম আজাদ জাকির , এড. জিল্লুর রহমান মুকুল, সালাউদ্দিন ভূইয়া সবুজ, মাহমুদুল হক আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, এড. আলম খান, এড. আলামিন সিদ্দিকী, সহ সাংগঠনিক এড. ইকবাল আহমেদ মানিক, এড.ওমর ফারুক নয়ন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. ঝিল্লুর রহমান মুুকুল, এড.আসমা হেলেন বীথি, এড.ইকবাল হামিদ মানিক, জোবায়ের আলম জীবন, এড.হাবীবুর রহমান হাবীব, এড.ফজলুর রহমান ফাহিম, এড.রুবেল মিয়া, এড.শামসুল আরেফিন টুটুল, এড.কায়সার আলম চৌধুরী, এড.আহসান হাবীব মাসুদ, এড.কবির খোকন, এড.গিয়াস উদ্দিন, এড.হুমায়ুন কবির হৃদয়, এড.রকিবুল ইসলাম শিমূল, এড.সালাউদ্দিন সবুজ, এড.মহসিন রানা, এড.নজরুল ইসলাম মাসুম, জেলা যুব আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড. শেখ আঞ্জুমান আহমেদ রিফাত, সাধারণ সম্পাদক এড. রাসেল মিয়াসহ প্রায় সাড়ে তিনশো আইনজীবী।