অটোরিকশার ব্যাটারী খুলে রাখলেই কন্ট্রোলে চলে আসবে- ইউএনও নাহিদা বারিক

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ ইজিবাইকের কারনে যেমন রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এছাড়া ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিকশা গুলো অবৈধ ভাবে বিদ্যুত ব্যবহার করছে। এ নিয়ে তুমুল সমলোচনা হয়েছে নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায়।

অবৈধ বিদ্যুত ব্যবহার বন্ধসহ জনগনের দূর্ভোগ লাঘবে খুব শিঘ্রই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা ও ইজিবাইক নির্মূলে মাঠে নামবে প্রশাসন।

সোমবার(১৩মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মিলনায়তনে উপজেলা আইনশৃংখলা মাসিক সভায় বক্তারা ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক নিয়ে কঠোর সমলোচনা করেন।

সভায় ইউএনও নাহিদা বারিক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ব্যাটারী চালিত রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রনে আনতে হলে তারা যেখানে ব্যাটারী চার্জ দেয় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে অভিযান চালাতে হবে। বিগত সময়ে আমি অটো রিকশা গুলো আটক করে ব্যাটারী খুলে রেখে দিতাম। বর্তমান সকলের সহযোগিতা নিয়ে সেই ভাবে পদক্ষেপ গ্রহন করলে আশা করছি অনেকটাই কন্ট্রোলে চলে আসবে।

সভায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আক্তার, ফতুল্লা মডেল থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী, সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা ও ইজিবাইক যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে প্রশাসনের পক্ষ হতে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না। সরকারী ভাবে কোন অনুমোদন না থাকলেও কিভাবে এ যানবাহন রাস্তায় চলাচল করছে তার নজরদারী নাই।

অটো রিকশা ও ইজিবাইক লাইসেন্স ছাড়াই বেপরোয়া ভাবে রাস্তায় চলাচল করছে। এ গুলোকে নির্মূল কিংবা নিয়ন্ত্রনে আনতে হলে যেখানে ব্যাটারী চালিত এ যানবাহন চার্জ দেয়া হচ্ছে সেখানে অভিযান চালাতে হবে।

তবে কেউ কেউ বলছেন, ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা ও ইজিবাইক পুরোপুরি ভাবে চলাচল বন্ধ করা যাবে না। তাদেরকে সিথীল করতে হবে যাতে করে মূল সড়কে চলাচল না করতে পারে। যেখানে সেখানে পার্কিং বন্ধ করতে হবে। আস্তে আস্তে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সভায় মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, কুতুবপুর ইউনিয়নটি ঢাকার পাশ্ববর্তী এলাকা হওয়ার সুবাধে বিভিন্ন জেলা হতে আসা লোকজন কুতুবপুরে জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মান করে। আর স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী ঐ বাড়ির মালিককে নানা ভাবে হয়রানী করে থাকে।
তারা বাড়ির মালিকদের বাড়ি নির্মান করতে হলে তাদের কাছ থেকে নির্মান সামগ্রী ক্রয় করতে চাপ সৃষ্টি করে। কোন বাড়ির মালিক যদি ক্যাডারদের কাছ থেকে নির্মান সামগ্রী ক্রয় করতে আপত্তি করে অন্য জায়গা হতে ক্রয় করে তাহলে তাদের নির্মান সামগ্রী রাস্তায় আটকে দেয়।

পরে বাধ্য হয়ে অধিক মূল্য দিয়ে ক্যাডারদের কাছ থেকে নির্মান সামগ্রী ক্রয় করছে। এ বিষয় গুলো প্রশাসন নজর দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
সাইফউল্লাহ বাদল বলেন, সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ ভরে গেছে। আমাদের দেশেও জঙ্গিবাদ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার আমাদের দেশের জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করে অনেকটাই কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন এলাকায় ছোট খাটো রুম ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা চালু করে।

আর সেই মাদ্রাসার মাওলানারা ছোট ছোট শিশুদের দিয়ে তিন বেলা খাবার দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয় মাদ্রাসার জন্য টাকা তোলার জন্য। শিশুদের দিয়ে সাহায্য আদায় করার নামে সেই অর্থ গুলো কোন মাদ্রাসায় খরচ করা হচ্ছে প্রশাসন সেই বিষয় গুলো খতিয়ে দেখা উচিৎ।