‘বাংলার সিংহাম’ সিংহ পুরুষ এসপি হারুন’!

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: এ যেন আরেক ইতিহাস। নারায়নগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ার মোড়ে টানানো হয়েছে বিশাল ব্যানার। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে এসপি হারুন বাংলার সিংহাম। সঙ্গে আরো বলা হয়েছে, সিংহ পুরুষ এসপি হারুন উল্লেখ করে দীর্ঘজীবী হোন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের নায়ক চরিত্রের নামে উপাধি দিয়ে ব্যানারগুলো কে বা কারা এটি করেছে তা জানা যায়নি।

ব্যানারে এসপি হারুনকে সিংহ পুরুষও আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইতোপূর্বে এমপি শামীম ওসমানকে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা সিংহ পুরুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এখন কে বা কারা এসপি হারুনকে সিংহ পুরুষ বলছে। প্রশ্ন উঠেছে,তাহলে নারায়ণগঞ্জের সিংহ পুরুষ  শামীম ওসমানের তকমা ছিনিয়ে নিলেন এসপি হারুন।
তবে নারায়নগঞ্জবাসীর মতেে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এসপি হারুন। এর আগে কোন প্রশাসনই রাজনৈতিক কিংবদন্তী পরিবার ওসমান পরিবারের কথার বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে সফল হতে পারেনি। এবারই প্রথম কোন পুলিশ কর্মকর্তা তার একক সিদ্ধান্তে নারায়নগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে কাজ চালিয়ে আসছে।

প্রতিদিনই রেড ব্লকের মাধ্যমে গ্রেফতার করছে অসংখ্য অপরাধী। ইতিমধ্যে চাঁদাবাজির মামলার জালে শক্তহাতে আটকে দিয়েছেন এমন কয়েকজন অপরাধী যারা এতদিন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। এদের মধ্যে বেশীরভাগকে মানুষ ওসমান পরিবারের সমর্থক হিসাবে জানে। বাদ যায়নি নাসিক মেয়র আইভি ঘরানার সমর্থকও । তবে সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ঘটনায় অপরাধীর ব্যাপারে এসপি হারুন কঠোর হলেও পুলিশ পেটানো অপরাধীদের ব্যাপারে কেমন যেন একটু আলগাভাব জনমনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।

গেলো চারমাসে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, মাদক কারবারী, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লাগাতার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে পাগলার মীর হোসেন মীরু,টেনুগাজী,ডিশ সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত নাসিক কাউন্সিলর আবদুল করিম বাবু,শ্রমিকলীগের ব্যানারে রাজনেতিক নেতা সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না,সিদ্ধিরগঞ্জের ছোট নজরুল,লামাপাড়া এলাকার দুর্ধর্ষ অপরাধী মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু.চর সৈয়দপুরের ডাকাত দৌলত মেম্বারকে গ্রেফতার -রিমান্ড,কারাবাস ভোগ করতে হয়েছে।

নাসিক মেয়র আইভি সমর্থক হিসাবে পরিচিত কাউন্সিলর কবির হোসেন,ভূমিখেকো হিসাবে পরিচিত জয়নাল আবেদীন ওরফে আল জয়নালকেও কারাবাস করতে হচ্ছে।

এ সকল অপরাধীদের ব্যাপারে ওসমান পরিবারের দুই প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান বিভিন্ন হুঙ্কার দিলেও টলানো যায়নি ‘সিংহাম’ উপাধি পাওয়া এসপি হারুনকে। আলটিমেটাম দিয়ে কাজ হয়নি। কথিত আছে,ডিশ বাবুকে গ্রেফতারের পর এমপি শামীম ওসমান নাকি পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও ছুটে গিয়েছিলেন কিন্তু কাজ হয়নি।

তার সাফ জবাব হচ্ছে পুলিশ অপরাধী গ্রেফতার করবে এটাই স্বাভাবিক,যদি আপনার লোক হয়ে থাকে তবে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমান করে জামিনে বের করে নিয়ে যাবেন,কোন আপত্তি নেই।

আওয়ামীলীগের কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ, এসকল টার্গেট অভিযানের পেছনে রয়েছে বিশাল অংকের  অর্থনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা।  তারা সাংবাদিকদের বলছেন, আপনারা পেছনের কারণ খুজে বের করুন এবং জনগণকে জানান। পুলিশ সুপারের ড্যাম কেয়ার মানসিকতার পেছনের কারণ কি? তিনি কি আসলেই নারায়ণগঞ্জবাসীর উপকার করতে চান! অতীত ইতিহাসতো বলে অন্য কথা। পুলিশ সুপারের উপর নারায়ণগঞ্জবাসী আস্থা রাখতে চায় জেলাবাসী।

তবে এটি সত্য যে, পুলিশ প্রশাসনের এসব অভিযান অব্যাহত থাকায় নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধ জনিত ঘটনা অনেক লোপ পেয়েছে।  গা ঢাকা দিয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা । রাজনৈতিক দলের নেতারাও তাদের দৌঁড়ঝাঁপ সীমিত করে রেখেছেন।

এ অবস্থায় এ ব্যানার এসপি হারুনসহ পুলিশ প্রশাসনকে যে আরো গতিশীল করে তুলছে তা পুলিশ লাইনে রোববারের ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতায় পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের বক্তব্যে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর কেউ যেন পুলিশের কোন কার্যক্রমে দ্বিমত বা বেঈমানি না করে সে কারণে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ, সাংবাদিকরা ও প্রশাসনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আমাদের সহযোগিতা করছেন তাতে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে শান্তি দেয়া একটি সহজ কাজ। জনগণ আমাদের সাধুবাদ জানাচ্ছে। আমরা এভাবেই এগিয়ে যাবো। পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারী, সন্ত্রাসীরা আমাদের ভয় পাবে। নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের জনপদ থেকে রক্ষা করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

তবে সবচেয়ে বড়সার্টিফিকেট দিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেছেন,আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে এসপি হারুনের কর্মকান্ডে সন্তুষ্ট নারায়নগঞ্জের সাধারন জনগন।