কানাডায় বাড়ি বানান মালিক কিন্তু আমাদের শ্রমিক থাকে অভুক্ত- মেনন

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, শ্রমিকের মজুরি দিলে নাকি মালিকদের পোষায় না। একটি গার্মেন্টস থেকে পাঁচটি গার্মেন্টসের মালিক হন, কানাডায় বাড়ি করেন কিন্তু আমাদের শ্রমিক অভুক্ত থাকে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা করাতে পারে না। তবুও শ্রমিক মাটি কামড়ে থাকে। অথচ মালিক বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাটাই করে যায়। আমার পেটে ভাত না থাকলে আমি অবশ্যই রাস্তায় নামবো। আইনের নাম করে তোমরা বেআইনি কাজ করছো। এটা হতে দেয়া যাবে না।
বুধবার (১ মে) বিকেলে মহান মে দিবস উপলক্ষে শহরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের পাশ্ববর্তী সড়কে অনুষ্ঠিত  রাশেশ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরো বলেন, মে দিবস শ্রমিকের অধিকারের দিবস। বহু রক্ত দিয়ে শ্রমিক এ দিবসটি আদায় করেছে। সেই হে মার্কেটের শ্রমিকেরা আট ঘন্টা কর্মদিবসের জন্য লড়াই করেছিল যা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আরো বলেন, পাকিস্তান আমলে আমরা এ দিবস পালন করতে পারি নাই, পালন করতে দেয় নাই। আমাদের হরতাল করতে হয়েছে, মিছিল করতে হয়েছে। কিন্তু আমাদের শ্রমিকেরা দমে যান নাই। তারা তাদের প্রাণের দিবসটি পালন করেছেন।

তিনি বলেন ,মে দিবস শ্রমিকের জন্য উৎসবের দিন। কিন্তু সেই উৎসব, আনন্দ ম্লান হয়ে যায় যখন ন্যায্য মজুরী না পায়। একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি দিয়ে মাসের ১৫ দিন চলে না। বিজেএমইএ, সরকার দাবি করছে, বেতন বাড়ানো হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন তিন বার বেতন বাড়ানো হয়েছে সঠিক। কিন্তু আট হাজার টাকা বেতন শ্রমিকের জন্য যথেষ্ট না। এই নূন্যতম মজুরি আদায় করতেও প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তারপরও মালিকপক্ষ প্রতারণা, চালাকির আশ্রয় নিল যাতে শ্রমিকের মজুরি কমে যায়।

রাশেদ খান মেনন বলেন, স্লোগানে বলা হয়েছে, শ্রমিক-মালিক ঐক্য করো, উন্নয়নের শপথ গড়ো। যে মালিক আমার ১০ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করে, ৩ হাজার শ্রমিককে মামলা দিয়ে রেখেছে, শ্রমিক মা-বোনদের অত্যাচার করে, মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয় না তার সাথে কিসের ঐক্য! মে দিবসের আসল কথা যারা ভুলে যেতে চায় তাদের বলি, শ্রমিকের অধিকার ৮ ঘন্টা কাজ, ৮ ঘন্টা ঘুম, ৮ ঘন্টা বিনোদন। তবুও কেন ১০ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে?
জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা, কেন্দ্রীয় ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির হোসেন, জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. হুমায়ূন কবির, জেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। শ্রমিক নেতা এইচ রবিউল চৌধুরীর সঞ্চালনায় থানা কমিটি ও বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।