শফিকুল ইসলামকে মুক্তি না দিলে স্বেচ্ছায় কারাবরন করবে ইসলামী আন্দোলন

সংবাদদাতা,মহানগরঃ   নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন জেহাদী বলেছেন, আগামী ৮ জুলাই যদি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে চরমোনাই পীরের হাতপাখা মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলামকে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গণ কারাবরণ করবে। আমরা জেল জুলুম গুলির ভয় করিনা। নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনে যারা পুরনো রয়েছে তারা জানেন আমরা এর আগে আন্দোলন করতে গিয়ে একসঙ্গে ১৫৭ জন কারাবন্দী হয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ঈমান বিক্রি করিনাই। আমরা শান্তিপ্রিয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমাদেরকে কঠোর আন্দোলনের দিকে ধাবিত হতে বাধ্য করবেন না।
২৯ জুন শুক্রবার বিকেলে শহরের ডিআইটিস্থ রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে চরমোনাই পীরের হাতপাখা মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসকল কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারকে ব্যর্থ দাবি করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের চাষাঢ়াস্থ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতী মাসুম বিল্লাহ বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে চরমোনাই পীরের হাতপাখা মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার পরিবারের সকলেই ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক। তিনি গত ১২ বছর ধরে ইসলামী আন্দোলন ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকে হামলা মামলা হুমকী ভয়ভীতি দেখিয়ে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে শিবির নেতা বানানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই। পুলিশ প্রশাসনের যারা এহেন ন্যাক্কারজনক কান্ডে জড়িত সেই সকল দোষী ব্যক্তিদের জনসম্মুখে উপস্থিত করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় ঘোষণা আসলে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। আমরা শান্তিপ্রিয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকলে তৌহিদী জনতা সেটা সহ্য করবেনা। সড়ক অবরোধ ছাড়াও আমরা গোটা নারায়ণগঞ্জ অবরোধসহ কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন জেলা কমিটির সেক্রেটারী শাহআলম কাঁচপুরী, মহানগরের সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ, শহর শাখার সেক্রেটারী মোঃ লোকমান হোসেন, আড়াইহাজার শাখার সভাপতি মোঃ আহন আলী, ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ রাজা, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম কাউসার আহাম্মদ, ইসলামী যুব আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি গিয়াসুদ্দিন মুহাম্মাদ খালিদ, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, জেলার সভাপতি. শফিকুল ইসলাম, ইশা ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মুহা. ইমদাদুল হক, মোঃ ওমর ফারুক, মুফতী ইবরাহীম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২০ জুন রাত ১২টায় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে চরমোনাই পীরের হাতপাখা মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে মিথ্যা মামলা দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের প্রার্থীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শিবিরের সেক্রেটারি বলে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফতুল্লা থানার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং গত সংসদ নির্বাচনেও তিনি হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন-এর পক্ষে নির্বাচন করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলন। এলাকার মধ্যে তিনি ছিলেন একজন সৎ, ন¤্র-ভদ্র ও নরম মনের মানুষ। গরীবের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। এমতাবস্থায় অবিলম্বে আমাদের প্রার্থীর মুক্তির দাবি করছি। অন্যথায় ইসলামী আন্দোলনসহ এর সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তখন উদ্ভুত পরিস্থিতির সকল দায়দায়িত্ব প্রশাসনকেই বহন করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন শান্তিপ্রিয় আন্দোলনে বিশ^াসী। তারা কোন বিশৃংখলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কোন কার্যকলাপে জড়িত নয়। ইসলাম ও মানবতার জন্য ধারাবাহিকভাবে আমাদের আন্দোলন ও কর্মসূচি চলছে। এমতাবস্থায় আমাদের পিছু টেনে ধরতে একদল স্বার্থান্বেষী মহল হিংসাত্মকভাবে এহেন কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন দলের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে শেষে রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি, ৬ জুলাই প্রতিটি থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।