বিকেএমইএ দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে- পলাশ

আজকের নারায়নগঞ্জঃ ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দাওয়া নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তরে আলোচনার জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্রমিক নেতা আবুল খায়ের ও আব্দুল কাদেরকে প্রধান করে ৭৪সংগঠনের পক্ষ থেকে শুক্রবার (২৯ জুন) বিকেলে এ কমিটি গঠন করা হয়। আগামী সোমবারের মধ্যে এই কমিটি ডিসি, এসপি, শিল্প পুলিশ ও কারখানা পরিদর্শকের সাথে আলোচনা করে তাঁদের রিপোর্ট পেশ করবে।

এদিন এ লক্ষ্যে আলীগঞ্জ লেবার হলে জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ণ ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সর্বস্মতিক্রমে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, বাহারান এ সুলতান, শাহাদাৎ হোসেন সেন্ট, মো. রফিক, গোলাপ, আবু সুফিয়ান ও নূরে আলম।

সভায় শ্রমিকদের ৭৪ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কাউসার আহম্মেদ পলাশ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শেখ হাসিনার সরকার শ্রমিক বান্ধব সরকার। সরকারের দুর্ণাম করার জন্য একটি পক্ষ শ্রমিকদেরকে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য করছে। এই পক্ষটি পরিকল্পিত ভাবে সরকারের দুর্ণাম করতে চাচ্ছে। তাঁরা চাচ্ছে শ্রমিকদেরকে উস্কে দিয়ে জ্বালাও- পোড়াও ভাঙচুরের মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে।”

তিনি বলেন, “আমরা কোনো রকম জ্বালাও- পোড়াও -ভাঙচুরে বিশ্বাসী না। আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান চাই। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে আমরা আছি। আলোচনার মাধ্য এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যাথায় বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো আমরা। তখন হাজার হাজার শ্রমিক জনতার স্রোত বইবে রাজপথে। তাই শ্রমিকদের না ক্ষেপিয়ে আলোচনায় আসুন, তাঁদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন।”

বিকেএমই’কে উদ্দেশ্যে করে এসময় পলাশ আরও বলেন, আমাদের গঠিত কমিটি ডিসি, এসপি, শিল্প পুলিশ, “কারখানা পরিদর্শকের সাথে সাক্ষাৎ করে সৃষ্ট সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আহ্বান করবে। বিকেএমইএ যদি এরপরও দায় এড়িয়ে যায় তাহলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। বৃহত্তর শ্রমিক সমাবেশের করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিসি’র মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করবো।”

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “কারো উস্কানিতে কোনো রকম ভাঙচুর যাতে কেউ না করে সেদিক লক্ষ্য রাখতে হবে। তৃতীয় কোনো পক্ষ এই সুযোগ নিতে পারে। আমরা আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করতে চাই। এরপরও যদি শান্তিপূর্ণ সমাধানে তারা এগিয়ে না আসে তবে, রাজপথে আন্দোলন করে শ্রমিকের ন্যায্য দাবি আদায় করা হবে।”

পলাশ বলেন, “সাকুরার সমস্যা সমাধান হলেও আবির-১ ও ২ এবং রেডিক্যাল, ওসমান, পপুলারসহ আরও ৭/৮ টি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীর সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। বিকেএমইএ এর দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে। আমরা বিকেএমইএকে আহ্বান করবো, মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সোহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তুলুন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মেনে নিন। শ্রমিকদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।”