নায়িকা রোজি যেভাবে হয়ে গেলেন রোজি আফসারী…….

বিনোদন ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ):  রোজীর সাথে আমার সম্পর্কটা প্রথমে সবাই মেনে নিতে চায়নি। রোজী ছিল অনেক বড় পরিবারের মেয়ে। পুরানা পল্টনে সাত বিঘা জমি নিয়ে ওদের বাড়ি ছিল। শত্রুরও অভাব ছিলো না। আমাকে মারার জন্য লোকে ড্যাগার নিয়ে আমাকে ফলো করতো। কিন্তু বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে গেল। অনেক বড় একটা পরিবার পেলাম, তাদের ভালোবাসা পেলাম। কারণ রোজীকে আমি সত্যিই ভালোবাসতাম। রোজী যেহেতু অনেক সুন্দরী, ওর চাহনেওয়ালার অভাব ছিলো না। কিন্তু কেউ পেরে ওঠেনি, কারণ আমি ছিনিয়ে নিতে জানি। আমি হার মানার লোক না-হোক সেটা কাজের ক্ষেত্র কিংবা প্রেমের ময়দান।

রোজীও দেয়ালের মতো সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে রক্ষা করতো। একটি বিখ্যাত ছবির শুটিঙের ঘটনা বলি। আলমগীর, সোহেল রানা, ফারুখকে নিয়ে মাল্টিস্টারার ছবি। ডিরেক্টর ছিলেন এ জে মিন্টু তার অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহ আলম কিরণ। তো আমার আর রোজী’র প্রেমের গুজবে চারদিক তখন মুখরিত। আমি তখনও একজন অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর। ঐদিন সম্ভবত ক্লাইম্যাক্সের শুটিং চলছিলো। “ব” অদ্যাক্ষরের এক বিখ্যাত নায়িকা সবার সামনে কিরণকে ডেকে বললেন, “কিরণ সাহেব, আপনি তো চিফ অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর। আমি আপনার সাথে প্রেম করবো।” রোজী খোঁচাটা বুঝলো। সে নায়িকাকে come with me বলে মেক-আপ রুমে ডেকে নিয়ে গেল (এখানে বলে রাখি, রোজী ক্যাম্ব্রিজের আন্ডারে ‘এ লেভেল” করেছিল। বাংলা ততটা পড়তে পারতো না)।

সেখানে কি হলো, খোদা জানে! ওখান থেকে নায়িকা সরাসরি হাসপাতালে, ছয়দিন সেই সিনেমার শুটিং বন্ধ ছিল। আমি তখন খোকা ভাইয়ের সাথে বসে কাজ করছি, পরিচালক স্বপন চৌধুরীও মনে হয় পাশে ছিলেন। আমার কাছে খবর এলো, ম্যাডাম আপনাকে ডাকে। আমি বললাম, কোন ম্যাডাম? জবাব এলো, ভাবী (ইন্ডাস্ট্রীতে ওর আরেকটা নাম ছিলো ভাবী)।

আমি চার নম্বর ফ্লোরে গিয়ে দেখি হুলস্থুল কান্ড, সাংবাদিকও চলে এসেছে। রোজী আমাকে ডাক দিয়ে গাড়িতে উঠতে বললো (আমাদের ছয় বছরের সম্পর্কে এই প্রথম সে আমার সাথে পাবলিকলি কথা বললো)। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ডিরেক্টরকে বললো, মেজর (পরিচালক এ জে মিন্টুকে ইন্ডাস্ট্রীর সবাই মেজর বলে ডাকতো), আপনার নায়িকা সুস্থ হওয়ার পর আমাকে কল দিয়েন। শুটিং শেষ করতে হবে।

রোজী আফসারীর জন্মদিনে মালেক আফসারীর স্মৃতিকথা ।