সাকুরার লাঠিতে মাতৃত্বের স্বপ্ন ধূলিস্যাত হনুফার !

 

আজকের নারায়নগঞ্জঃ নষ্ট হয়ে গেছে গার্মেন্টস শ্রমিক হনুফার ৪ মাস বয়সী গর্ভের সন্তান। সাকুরা গার্মেন্টসের হেলপার পদে চাকুরী করা হনুফা এখনো ফতুল্লার মোস্তাফিজ সেন্টারের ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বেডে স্ত্রীর পাশে বসে আছে স্বামী সাইফুল। দাম্পত্য জীবনের প্রথম সন্তানের মুখ দেখার আশায় ছিলেন খেটে খাওয়া অসহায় এই দম্পতি। কিন্তু সাকুরা গার্মেন্টসের মালিক পক্ষের সন্ত্রাসীদের লাঠির আঘাতে ভেঙ্গে গেছে সেই স্বপ্ন।
২৭ জুন দুপুরে ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। ৪ মাস যাবত চাকুরী নিয়েছে সাকুরা গার্মেন্টসে হেলপার হিসাবে। স্বামী সাইফুল কাজ করেন চাদঁ ডাইংয়ে। উভয়ের বিয়ের পর এটাই প্রথম সন্তান গর্ভে ধারন করে হনুফা। স্বপ্ন ছিল সন্তানের মা হবে। কিন্তু ২৬ জুনে কর্মস্থলে মালিক পক্ষের সন্ত্রাসীদের আকস্মিক হামলায় মা হবার স্বপ্ন ধূলিস্যাত হয়ে যায়।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে হতবাক হয়ে চেয়ে থাকা হনুফা জানায়,২৬ জুন মঙ্গলবার সকালে কাজে গিযে ৫তলায় উঠে। তার সাথে অনেকেই ছিল। কিন্তু হঠাৎ শুনতে পায়,নীচে শ্রমিকদের বেধড়ক পেটাচ্ছে । ঘটনা শুনে সকলের সাথে দৌড়ে নীচে নামার সময় তার উপরেও হামলা চালায় কয়েকজন। প্রথমেই লাঠি দিয়ে তার পেটে গুতা দিলে সে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে। পরে আরো ৩/৪ জন তাকে পিঠে ও পায়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় সেখানে ভয়াবহ আকার ধারন করে। পরে কে বা কারা তাকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গর্ভের ৪ মাসের সন্তান ফেলে দিতে হয়।
পরে চিকিৎসা শেষে ফতুল্লার মোস্তাফিজ সেন্টারে ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়,ঘটনার দুদিন পর্যন্ত হনুফার প্রস্রাব বন্ধ ছিল।
এ সময় হনুফা ও তার স্বামী সাইফুল কান্নাবিজড়িত কন্ঠে জানায়,আমাদের ২ বছরের বিবাহিত জীবনে এটাই প্রথম সন্তান ছিল। স্বপ্ন ছিল অনেক,কিন্তু সাকুরা গার্মেন্টসের মালিকদের কারনে আমাদের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন ভাইঙ্গা গেল।এ ক্ষতি পোষাবে কে ?