কাশিপুরের স্কুল ছাত্রী সুইটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূলহোতা গ্রেফতার

আজকের নারায়নগঞ্জঃ   অবশেষে কাশিপুরের স্কুল ছাত্রী সুইটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূলহোতা প্রতারক প্রেমিক মৃদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) দুপুরে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সে কাশিপুর বড় মসজিদ এলাকার আব্দুল খোকা মিয়ার ছেলে মৃদুল।

মৃদুলের গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের। এর আগে এ মামলায় আরও এক আসামী মাহফুজকে আটক করা হয়েছিলো।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি ও ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ধর্ষকের মায়ের তীর্যক অপমান সহ্য করতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলো ওই স্কুলছাত্রী সুইটি। অগ্নিদগ্ধে তাঁর মুখম-লসহ শরীরে ৭৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিলো।

এ ঘটনায় পরেরদিন অভিযুক্ত মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কংসপুর গ্রামের আব্দুল খোকা মিয়ার ছেলে মৃদুল, তাঁর মা পারুল বেগম এবং ধর্ষকের বন্ধু মাহফুজ, রিংকু ও রাসেলকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্তরা ফতুল্লার কাশীপুর হাটখোলা সিকদার বাড়ি এলাকায় বসবাস করে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ওই কিশোরীর প্রেমিক ছিলো ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মৃদুল। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে। আর এ দৃশ্য গোপনে ধারণও করে রাখে। এরপরই চলে ব্ল্যাকমেইল। ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে একাধিকবার করা হয় ধর্ষণ। এ ঘটনা যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন কিশোরী পুরো ঘটনাটি তাঁর মাকে জানায়।

ঘটনা সূত্রে আরও জানা গেছে, এ ঘটনা জানার পরেই ভুক্তভোগি কিশোরীর মা অভিযুক্তের মা পারুল বেগমের কাছে এ ঘটনা জানিয়ে বিচার দাবি করেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পারুল বেগম। এক পর্যায় কিশোরীর মাকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন পারুল বেগম। এ ঘটনার পর ওইদিন রাতেই কিশোরী নিজ রান্না ঘরে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ৬২ দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ এপ্রিল রাতে সুইটি মারা যায়।