মার্কার জন্য আমি কারো হাতে পায়ে ধরতে পারবো না- সেলিম ওসমান

আজকের নারায়নগঞ্জঃ   নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, মার্কার জন্য আমি কারো হাতে পায়ে ধরতে পারবো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই বলে দেবেন তুমি এই মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবে। কাউকে বলতেও হবে না নারায়ণগঞ্জের ৫টা আসনেই নৌকা চাই। এতে নেত্রীকে অসম্মান করা হয়। কারণ এই নেত্রীই এই নারায়ণগঞ্জে নৌকার উপর লাঙ্গল তুলে দিয়ে গিয়েছেন। এই নেত্রীই নারায়ণগঞ্জের নাসিম ওসমানের জন্য ৪৫ মিনিট ভাষণ দিয়েছেন, যা অনেকেরই সহ্য হয় নাই। নাসিম ওসমান কিন্তু নৌকায় ছিলেন না। তিনি লাঙ্গলেই ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া সেলিম ওসমান চলবে না। সারা নারায়ণগঞ্জের মানুষ যদি বলেন আপনি নির্বাচন করেন, তবুও ওনার (শেখ হাসিনা) অনুমতি আমার লাগবেই। যদি উনি বলেন সেলিম আমি পারলাম না, তুই যা করার কর, তাহলে আনারস মার্কা তো আছেই।

মঙ্গলবার (২৬ জুন) বিকেলে নগরীর খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনের সড়কে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টির আয়োজনে সেলিম ওসমানকে দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলে গেলেন আজকে নির্বাচন করবো কি করবো না তার ঘোষনা দিতে। কিন্তু আজকে আমি তার ঘোষনা দেবো না। আমি ঘোষনা দেবো যে, আমি সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলতে চাই। আজকে সিটি কর্পোরেশনের এতগুলো কমিশনার এসেছেন এটা আপনাদের দায়িত্ব। আর উনি যদি কথা বলতে রাজি না হন তবে আমি অপেক্ষা করবো অন্য কেউ এমপি হবে। আর তাহলে এমনও হতে পারে আল্লায় যদি আমারে বাঁচায় রাখে তবে সিটি কর্পোরেশনের চেয়ার বদলাবো।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার ৪ বছর উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টির আয়োজনে তাকে দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (২৬ জুন) দুপুরে নগরীর খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনের সড়কে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমার নারায়ণগঞ্জে মানুষ কিন্তু ভুক্তভোগী, আমার নারায়ণগঞ্জের মানুষ মশার কামড় খায়, ডায়রিয়ায় ভোগে, ময়লার কারণে রাস্তায় হাটতে পারে না। ছোট বোন (আইভী), তোমার বাবা আমার শ্রদ্ধেয় মানুষ ছিল। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। তুমি শুধু চেয়ারে বসে থাকো। আমাকে অনুমতি দাও, এ রাস্তা কি করে পরিষ্কার করতে হয়, এ যানজট কেমন করে নিরসন করতে হয়, আমি করবো।
সেলিম ওসমান মেয়রের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, এমনটা কইরো না যে আজীবন জনপ্রতিনিধি থাকবো, তাই অন্যে উন্নয়ন করলে তার পাঞ্জাবী টেনে ধরে রাখবো শহরের উন্নয়ন করতে দিবো না। আমার হায়াৎ আর কতক্ষণ আছে? এই সময়টুকু আমি শুধু নারায়ণগঞ্জবাসীর গোলামী করতে চাই। আসো আমরা একে অন্যকে সহযোগীতা করি।

নারায়নগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন নারায়নগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা,সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী,সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী নাসরিন ওসমান,জেলা বিএমএ নেতা ডাঃ শাহনেওয়াজ,জেলা ক্রীড়া সংস্থার কুতুবউদ্দিন আকসীর,জেলা জাতীয় পাটির সআহবায়ক আবুল জাহের,জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী,জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগ সভাপতি মীর সোহেল  ,আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল,সাধারন সম্পাদক এড.মোহসিন মিয়া,মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি চন্দন শীল,বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল,সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান,সাধারন সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া,নাসিক কাউন্সিলর আঃকরিম বাবু,সুলতান আহমেদ,সাইফুদ্দিন দুলাল, গোলাম নবী মুরাদ,শওকত হাশেম শকু,নাজমুল আলম সজল,আফজাল হোসেন,হান্নান সরকার,  প্রমুখ।