শ্রমিক অসন্তোষঃ মালিকপক্ষের মামলার পরে নির্যাতিত শ্রমিকের মামলা নথিভুক্ত

সংবাদদাতা,ফতুল্লাঃ  সাকুরা গার্মেন্টসের শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ২৫ জুন সোমবার রাতে মালিকপক্ষের মামলা নথিভুক্ত করার পরের দিন ২৬ জুন মঙ্গলবার ১২টা ১০ মিনিটে শ্রমিকদের পক্ষে মামলাটি নথিভুক্ত করেন ওসি শাহ মোঃ মঞ্জুর কাদের। মামলা নং-৮৫/৬৩৩ তাং-২৬/০৬/১৮।
সুইং অপারেটর সজীব বাদী হয়ে মামলায় সাকুরা ডাইং এন্ড গার্মেন্টস লিং এর ইনচার্জ রয়েল(৪০),ফিনিসিং ইনচার্জ মালেক(৩৮),ইনফোড সুপারভাইজার সাবিব্বর(২৫), লাইনচিফ সাহাবুদ্দিন(৩৫), আলআমিন(৩০),স্টোর ইনচার্জ কাইয়ুম(৩৫).সুপারভাইজার মাসুম(২৫),লাইনচিফ সজিব(২৬) ,ইনফোড সুপারভাইজার শান্ত(২৪)সহ ৩০জনকে আসামী করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে,প্রতিদিনের ন্যায় ২৫ জুন সকালে কারখানায় প্রবেশ করা মাত্রই গেইট বন্ধ করে তাকেসহ আরো শ্রমিকদের উপরে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সে সহ শ্রমিকহনুফা,খোকন,মাসুদা,রিনা,আরিফকামরুর নাহার,আতিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ওকুপিয়ে মারাতœক জখম করে এবং টাকা-পয়সাসহ মোবাইল এবং মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়।

এর আগে ২৫ জুন সোমবার রাতে দুইটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিক পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানায় এসব মামলায় ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে দুইশো ৩৫ জনকে।

এরমধ্যে সাকুরা গার্মেন্ট লিমিটেডের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পাইনদি নতুন মহল্লা এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মো. মনির হোসেন। এতে তিনি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনেন।

মামলায় আসামী করা হয়েছে, মো রানা; পিতা মো. সরাব আলী, মো. আরিফ উদ্দিন; পিতা মো. শহিদ মিয়া, মো. মোস্তাক; পিতা আব্দুল কাদের, মো. সুজন; পিতা মো. মাফল, মো. আল আমিন; পিতা মো. আমজাদ মোল্লা, মো. ইসহাক; পিতা মো. হযরত আলী, রাসেল হোসেন; পিতা মালেক সরদার, সরোয়ার হোসেন; পিতা আব্দুল আউয়াল, মো. সোহেল হোসেন; পিতা ফরিদ উদ্দিন, মো. আতিকুর রহমান; পিতা লাল মিয়া, সুলতান; পিতা আব্দুর রহিম, রেজাউল; পিতা সেলিম মুসুল্লী, মো. আকাশ; পিতা জুলহাস, হিরা দাস; পিতা ভজেন চন্দ্র দাস, কামাল; পিতা রহিম বাদশা, মো. ইসমাইল; পিতা সানাল মিয়া, মো. শুভ মিয়া; পিতা সেলিম হাওলাদার, মো. মাসুম; পিতা আব্দুর রশিদ, রতœা শীল; স্বামী মঙ্গল শীল, সোহেল তানভীর; পিতা বদরুজ্জামান, সুজন মিয়া; পিতা কাজল মিয়া, মো. গিয়াসউদ্দিন; পিতা আব্দুল খালেক মাতব্বর, মো. আতাবুর শেখ; পিতা চুন্নু শেখ, মো. রাজু মাসুদ; পিতা মো. ওয়াহেদ আলী, মো. সজিব হাওলাদার; পিতা মো. আলমগীর হাওলাদার, মোসা. রোজিনা আক্তার; পিতা শাহজান খান, মোসা. রাশিদা খাতুন; পিতা মো. মোশারাফ, মো. হাবিব মিয়া; পিতা আলতাফ হোসেন এবং অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন।

এছাড়া অপর মামলাটি দায়ের করা হয় রেডিকেল গার্মেন্টের পক্ষে। মামলাটি দায়ের করেন কারখানাটির ম্যানেজার (প্রশাসন) ও গাইবান্ধা জেলার বিষ্ণু কুমার ম-লের ছেলে অলক কুমার ম-ল। এতে তিনি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুচপাটের অভিযোগ আনেন।

মামলায় আসামী করা হয়েছে, আকলিমা বেগম, শাহনাজ, সীমা আক্তার, মোজাম্মেল, মো. রবিন, ফিরোজা, মাহমুদা, চম্পা বেগম, ময়নুল ইসলাম, সামসুন নাহার, সুমি খাতুন, আশিক, মো.সৈকত হোসেন, হুজুর আলী, মনোয়ারা বেগম, নাজমা খাতুন, মাসুদা, রবিনা আক্তার, কবিতা আক্তার, শিরিনা, ফারজানা আক্তার মুন্নি, সুরিয়া আক্তার বেলি, সম্পা, তাসলিমা, সালমা, শরিফ হোসেন, মো. রনি, মো. আল আমিন, আজিজুল ইসলাম, সশী বেগম, তামান্না আক্তার, মো. মিলনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ১‘শ থেকে দেড়শজনকে। এখানে সকলের পিতা অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়েছে।