সরকারী দলের শ্রমিকনেতাকে তেড়ে যাওয়া এমপিকে থামালেন ওসি মঞ্জুর কাদের

আজকের নারায়নগঞ্জঃআবারো প্রকাশ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে রূঢ় আচরন করে সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার সুযোগ করে দিলেন আলোচিত ব্যবসায়ী নেতা নারায়নগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি একেএম সেলিম ওসমান।

২৫ জুন সোমবার ফতুল্লা মডেল থানার প্রধান ফটকে একই আচরণ করলেন সেলিম ওসমান। তবে পার্থক্য শুধু এটুকু তিনি কোনো সাংবাদিকের দিতে তেড়ে যাননি, তিনি প্রকাশ্যে জনস্মুখে তেড়ে গিয়েছিলেন পলাশ অনুসারি এক শ্রমিক নেতার দিকে। এসময় ওই শ্রমিক নেতাকে অকথ্য গালাগাল করেন। তবে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোঃ মঞ্জুর কাদেরের তাৎক্ষনিক  হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সোমবার (২৪ জুন) দুপুরের দিকে ফতুল্লা মডেল থানা গেটে একই অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মো. মঞ্জুর কাদেরের সামনেই ওই ঘটনাটি ঘটে। এসময় বিকেএমইএ নেতা মোহাম্মদ হাতেমসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্র জানায়, সোমবার (২৫ জুন) সকালে সাকুরা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীর শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে গেলে বাছাই করে ৩৬জন শ্রমিককে কাজে যোগদানে বাধা দিয়ে জানানো হয় তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এরপরই উপস্থিত শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরী ত্যাগ করার সময় মালিক পক্ষের লোকজন হকস্টিক নিয়ে শ্রমিকদের বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে ৭ জন শ্রমিক রক্তাত্ব জখম হলে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে গার্মেন্ট ভাঙচুরসহ শিবু মার্কেট এলাকার লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এখান থেকে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিলে তাঁরা একটি মিছিল নিয়ে আলীগঞ্জের দিকে যায়।

এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর বারোটার দিকে এমপি সেলিম ওসমান ফতুল্লা মডেল থানায় ছুটে গিয়ে সাকুরার মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা শেষে বের হয়ে থানার মূল ফটকের কাছে আসলে সেখানে  শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ অনুসারি   ইউনাইটেড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেন্টুকে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।

এসময় সাংসদ সেন্টুকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলে ওঠেন, ‘ওই ব্যাটা তুই এখান থেকে যাস না ক্যান?’ এরপরই সেন্টু এর জবাবে বলেন, ‘আরে, আপনি আমার উপরে রাগ হইতাছেন ক্যান?’ সেন্টুর এ কথার পর আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন সাংসদ সেলিম ওসমান।

তিনি সেন্টুকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য গালাগাল করে এবং তাঁর দিকে মারমুখি ভঙিতে তেড়ে যান। এসময় উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মো. মঞ্জুর কাদের সেন্টু সরিয়ে দেন এবং সাংসদ সেলিম ওসমানকে নিবৃত করেন।

এদিকে এ ঘটনার পরই সাংসদ সেলিম ওসমান অপেক্ষাকৃত তাঁর কালো রঙ গাড়িতে গিয়ে ওঠে বসেন। এসময় ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন কাউসার আহম্মেদ পলাশ। তিনি সেলিম ওসমানের গাড়ির কাছে যান এবং সেন্টু প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাইলে সেলিম ওসমান পলাশকে বলেন, ‘তোমার সাথে ফোনে কথা হবে।’ এই বলেই গাড়ি করে তিনি চলে যান।