শ্রমিক অসন্তোষের নেপথ্যে সাকুরা  মালিকপক্ষ ! গার্মেন্টসে হকিস্টিক ?

 

আজকের নারায়নগঞ্জঃ গার্মেন্টসের ভেতরে হকিস্টিকসহ ধারালো অস্ত্র ! কারখানায় প্রবেশের পর টার্গেট করে শ্রমিকদের আটকে মারধর ? মালিকপক্ষের উস্কানিই গার্মেন্টসের শ্রমিক অসন্তোষের মূল কারন ? ২৪ জুনের শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে পুলিশ কর্তৃপক্ষ,শ্রমিক প্রতিনিধিরা সূষ্ঠ সমাধানের চেষ্টা করলেও কুতুবআইল এলাকার সাকুরা গার্মেন্টসের মালিকপক্ষ ক্যাডারি মনোভাব প্রদর্শনে শ্রমিক নির্যাতন শুরু করলে ২৫ জুন সোমবার আবারও অশ্বান্ত হয়ে উঠে শিল্প এলাকা।


আরো জানা গেছে,২৫ জুন সকালে শ্রমিকেরা শ্বান্তভাবে কর্মস্থলে যোগ দিতে গেলে টার্গেট করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কয়েকজন শ্রমিককে কারখানায় ফ্লোরে আটকে রেখে বেদম নির্যাতন চালায়। এতে একজন গর্ভবতী শ্রমিকসহ ২০/২৫জন শ্রমিক আহত হয়। এরমধ্যে হনুফা,সাবিনা,রোকন মন্ডল,রাসেল,শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোঃ মঞ্জুর কাদেরের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতদের উদ্ধারসহ মালিকপক্ষের দুই ক্যাডারকে আটক করে।

সেলিম ওসমান জানিয়েছেন, মালিক পক্ষের দোষ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি এসব ঘটনায় শ্রমিকদের দোষ থাকে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে তিনি শ্রমিকদের উপর হামলা চালানোর ঘটনায় সাকুরার মালিককে কঠোর ভাষায় শাসিয়ে দেন। তিনি মালিকের কাছে জানতে চান ফ্যাক্টরীর ভেতরে হকস্টিক কি করে আসলো? এর জবাবে মালিক জানিয়েছেন তিনি ফ্যাক্টরীতে ছিলেন না, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তা তিনি জানেন না।

সাংসদ সেলিম ওসমান হকস্টিকধারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির নিশ্চয়তা প্রদান করেন শ্রমিকদের। এসময় আহত শ্রমিকদের সম্পন্ন চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য গার্মেন্ট মালিককে নির্দেশনা দেন।

পরবর্তীতে ফতুল্লা মডেল থানায় বসে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান এমপি বরাবরে নির্যাতিত শ্রমিকদের বক্তব্যে যা জানা গেছে,সাকুরা গার্মেন্টসসহ কয়েকটি কারখানায় ঈদের আগে অর্ধেক বেতন পরিশোধ করলেও পুরো বেতনের শীটে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। তাৎক্ষনিকভাবে কেউ কেউ বুঝতে পারলেও অধিকাংশ শ্রমিক বুঝে উঠতে পারেনি। এ নিয়ে মালিকপক্ষের সাথে কথা কাটাকাটি হলে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরী হয়।
এ ঘটনায় ঈদের পর খোলা হলে টার্গেট করে কতিপয় শ্রমিককে ছাটাই করা হলেও বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। এ নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওসমান গার্মেন্ট,আবির ফ্যাশন,শিক গার্মেন্টস,সাকুরা গার্মেন্টস,র‌্যাডিক্যালসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বের হয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করে।
পরে পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্নভাবে পরের দিন ২৫ জুন সোমবার কমস্থলে যোগ দিতে গেলে মালিক পক্ষের লেলিয়ে দেয়া ব্যক্তিদের অসাদাচরণের কারণে শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওই বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সাকুরা গার্মেন্টসের পিএম,কাটিং ইনচার্জসহ আরো কয়েকজনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় হকি স্টিক,লাঠিসোটা নিয়ে শ্রমিকদের হামলা করে এবং পিটিয়ে মারাত্নক জখম করে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের মাঝেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শ্রমিকেরা সংগঠিত হয়ে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ লিংকরোড অবরোধ করে।
শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ওই সড়কে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিস ও স্কুল-কলেজমুখি যাত্রী সাধারণ। এসময় ওই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে ৯টার দিকে শ্রমিকদের মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছে এই শ্রমিক অসন্তোষ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে। বড় ধরণের কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনও পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে।