ছয় গোল খেয়েও খুশী পানামা !

ক্রীড়া ডেস্ক:  ফুটবলের মহাযজ্ঞ বলা হয়ে থাকে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলকে। প্রতি চার বছর পর পর এ আসরটি অনুষ্ঠিত হয়। পুরো ফুটবল বিশ্বকে ছয়টি ভাগে ভাগ করে সেখান থেকে শীর্ষ ৩২ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ফুটবলের এ মহাযজ্ঞ। তাই এখানে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি দলের জন্যই সম্মানজনক। প্রতিটি দেশই চায় এমন একটি টুর্নামেন্টে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে।

এবারের বিশ্বকাপে নবাগত দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ করছে আইসল্যান্ড ও পানামা। আইসল্যান্ড তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে আটকে দেয়। অন্যদিকে পানামা তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিতে পারেনি। উল্টো বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯৬৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে।

যে কোনও দলের কাছেই পরাজয় অনেকটা কষ্টের। আবার তাও যদি হয় ছয় গোলের ব্যবধান, তাহলে সেটা আরও কষ্টের। ব্রাজিলের মতো দলকেও এমন কষ্টের মধ্য দিয়ে পেরুতে হয়েছে গত বিশ্বকাপে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে নিজেদের মাঠে পরাজয়বরণ করে তারা। যার ক্ষত তাদের বয়ে বেড়াতে হয়েছে এ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তাই এবার তারা ট্রফি জিতে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে চায়।

কিন্তু আজকের আলোচনায় এসেছে পানামা। ইংল্যান্ডের কাছে ছয় গোলের বিশাল ব্যবধানের পরাজয়ের পরও তাদের মধ্যে কোনও অনুশোচনা কাজ করেনি। বরং পুরো গ্যালারিতে তাদের দর্শকদের উল্লসিত চেহারাগুলোই ভেসে উঠছিল। এমনকি ক্যামেরাতেও দেখা যায় তাদের কোচও অনেক খুশি। এতো গোল খাওয়ার পরও গ্যালারিজুড়ে এমন উল্লাসের কারণ কি?

কারণ হিসেবে খুঁজে দেখা যায়, তারা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের কাছে ছয় গোল খেলেও নিজেদের ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বপ্রথম গোল দেয় ইংলিশদের বিপক্ষে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ফিলিপে ব্যালয়। আর এ গোলের সঙ্গে সঙ্গে পানামার ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞে প্রথম গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লেখান।

এই গোলের পরই পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে পানামা সমর্থকরা। ব্যালয় হলেন বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের চতুর্থ সর্বজ্যেষ্ঠ গোলস্কোরার। এদিন তার বয়স হয় ৩৭ বছর ১২০ দিন।

অথচ বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে আসাটা সহজ হয়নি পানামার। বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ারের শেষ ম্যাচে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দলকে শেষ মিনিটের গোলে পরাজিত করে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। যে দিনটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার উল্লাসে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয় পানামায়।