সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই মেয়ে খুনে জড়িত স্বামী,সতীন ও তার চাচাতো ভাই

আজকের নারায়নগঞ্জঃ    সিদ্ধিরগঞ্জে উদ্ধার হওয়া তিনটি লাশ মা ও তার দুই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে গৃহবধু আঞ্জুবী আক্তাররের স্বামী মাসুদ। হত্যাকান্ড ঘটায় দ্বিতীয় স্ত্রী শোভা আক্তার ও তার চাচাতো ভাই সবুজ ওরফে সোহেল। এভাবেই আদালতে হত্যার নির্মম বর্ননা দিলেন গ্রেফতারকৃত সোহেল। মুলত স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিরোধের জের ধরে প্রথম স্ত্রী ও তার দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাদের লাশ বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হয়েছিল পুকুরে।

রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত সবুজ ওরফে সোহেল। অপর গ্রেফতারকৃত স্বামী মাসুদ দেওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত শুনানীর জন্য সোমবার ধার্য্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার দক্ষিণ শাশাআলী এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মাসুদ দেওয়ান ও চাচাতো শ্যালক নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার ফতুয়া এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে সবুজ ওরফে সোহেল।

হত্যাকান্ডের শিকার মাসুদের স্ত্রী নোয়াখালীর সেনবাগের পদুয়া এলাকার আঞ্জুবী আক্তার (২৮) ও তার দুই মেয়ে ৭ বছর বয়সী মাঈদা আক্তার ও ১৫ মাস বয়সী মাহি।

রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ডের রোমহর্ষক বিবরণ জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরফুদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম, পরিদর্শক (অপরারেশন) আজিজুল হক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউসিং মসজিদ গলির কবির মিয়ার বাড়ির ৬ তলার পশ্চিম দক্ষিণ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় মাসুদ দেওয়ান। তিনি তার প্রথম স্ত্রী আঞ্জুবী আক্তারের দ্বিমতে তারই বান্ধবী শোভা আক্তারকে বিয়ে করেন। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেইছিল। ওই ঝগড়ার জের ধরে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী শোভা আক্তার ও চাচাতো শ্যালক সবুজ ওরফে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম স্ত্রী আঞ্জুবী আক্তারকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৯ জুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও চাচাতো শ্যালক মিলে প্রথমে আঞ্জুবী আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বড় মেয়ে মাঈদা ও ছোট মেয়ে মাহিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর তাদের লাশ বস্তায় ফেলে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি নির্জন স্থানে ও একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয়।

গত ১১ জুন বিকাল ৫টায় সিদ্ধিরগঞ্জের ভাঙ্গারপুল এলাকার ডিএনডি ইরিগেশন খালের পাশ থেকে ড্রামের মধ্যে আঞ্জুবী আক্তারের (২৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর গত ১৬ জুন ঈদের দিন আটি হাউজিংয়ের আলী মোহাম্মদের মাছের খামারে ভাসতে থাকা বস্তাবন্দী অবস্থায় ১৫ মাস বয়সী শিশু মাহির লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৮ জুন আটি এলাকার একই খামারে ভাসতে থাকা একটি ব্যাগ থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় শিশু মাহিদার (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মোঃ শরফুদ্দিন জানান, ঘাতক সবুজ ওরফে সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। স্বামী মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। অপর ঘাতক দ্বিতীয় স্ত্রী শোভাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।