ছুটির টাকা দাবী করায় র‌্যাডিক্যাল,ওসমান,আবির,সাকুরায় শ্রমিক ছাটাইঃপ্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

 

আজকের নারায়নগঞ্জঃ ছুটির টাকা নগদায়নে চাপ সৃষ্টির অভিযোগসহ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ।ঈদের আনন্দ কাটিয়ে কর্মস্থলে এসে দেখতে পায় প্রধান ফটকে ঝুলছে ছাটাইয়ের নোটিশ। তালিকা পড়ে দেখতে পায় কোন কারন ছাড়াই অসংখ্য শ্রমিকেরই চাকুরী নাই। কোন রকম কারন ছাড়াই বেতন-ভাতাদি পরিশোধ না করে চাকুরীচ্যুতিকে মেনে নিতে পারছে না খেটে খাওয়া সাধারন শ্রমিকগুলো। এ ব্যাপারে জবাব চাইতে গেলে মালিক পক্ষের সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার হতে হয় শ্রমিকদের।
তাই প্রতিবাদে হাজারো শ্রমিক নেমে পড়ে রাজপথে,অবরোধ করে ফতুল্লা মডেল থানার সমানে ঢাকা- নারায়নগঞ্জ সড়কপথ। পরে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদেরের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে র‌্যাডিক্যাল গার্মেন্টসের মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা।
অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা হচ্ছে র‌্যাডিক্যাল ডিজাইন গার্মেন্টসের মালিক গোপাল(৪৮),এডমিন অফিসার অলক(৪৭),সিকিউরিটি ইনচার্জ আওলাদ(৫২)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জন।

সাকুরা গার্মেন্টসের মালিক পক্ষের লোকজন ব্যবস্থাপক মোঃ খোকন সাহেব, এ,পি,এম মোঃ নজরুল, ইনচার্জ মোঃ রাসেল, সহ সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন।
২৪ জুন রোববার ছিল শিবু মার্কেট এলাকার র‌্যাডিক্যাল,কাঠের পুলের ওসমান গার্মেন্টস,আবির ফ্যাশনের ইউনিট-১ ও ২,দরগাবাড়ী মসজিদ এলাকার ট্রেক এশিয়ান গার্মেন্টস,কুতুবআইলের সাকুরা ডাইং এন্ড গার্মেন্টসসহ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মস্থলে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের সময়।
ঈদের পর ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও অযথা ছাটাই,বেতন-ভাতা আতœসাত,সন্ত্রাসীদের দিয়ে শ্রমিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।

রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ফতুল্লা শিবুমার্কেট এলাকা থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু হয়। বেলা ১২ টা পর্যন্ত কয়েকটি গার্মেন্টের কয়েক হাজার হাজার শ্রমিক একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে অবস্থান নেয়। পরে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।
শ্রমিকরা জানান, ফতুল্লার শিবুমাকেটের ঈদের আগে থেকে সাকুরা, রেডিক্যাল, ওসমান, আবির ফ্যাশন, ইউরোটেক্সের শিক গার্মেন্টসহ ৬-৭টি তৈরি পোশাক কারখানায় ঈদের আগে থেকেই নানা ধরনের সমস্যা চলে আসছিল। ঈদের আগের মালিকপক্ষ সমাধান না করে ছুটি দিয়ে দেয়। আর ঈদের ছুটির পর এসে রেডিক্যাল গার্মেন্টের শ্রমিকরা সকালে কারখানায় এসে মূল গেইটে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করে।
পরে তাদের দেখে ওসমান গার্মেন্টের শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। এ দুটি কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এসে অবস্থান নেয়। পরে সাকুরা, আবির ফ্যাশন, ইউরোটেক্সের শিক গার্মেন্টসহ ৬-৭টি কারখানার হাজার হাজার শ্রমিকরা রাজপথে নামার পর ফতুল্লার শিল্পাঞ্চল উত্তাল হয়ে উঠে। পরে তারা বিক্ষোভ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে অবস্থান করে। এসময় তারা ফতুল্লা মডেল থানার সামনে অবস্থান করে। তাদের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখার হুশিয়ারী করেন।
শ্রমিকরা আরো জানান, কারখানার মালিকরা তাদের পালিত সন্ত্রাসী দিয়ে শ্রমিকদের উপর নির্যাতনসহ কথায় কথায় চাকুরীচ্যুত করা এবং নিয়মন অনুযায়ী বেতন ভাতা পরিশোধ না করে উল্টো হুমকি দেয়। ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও মালিকদের কারনে রাজপথে নামতে বাধ্য হতে হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের রাস্তা হতে সরানো হয়েছে। কারখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেয়ার পর তারা রাস্তা হতে অবরোধ তুলে নিয়ে তাদের সমস্যা গুলো লিখিত ভাবে থানা পুলিশকে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
তবে ১৮ জুন-২০১৮ তারিখে ইস্যুকৃত র‌্যাডিক্যালস ডিজাইন লিঃ এর প্রদত্ত এক নোটিশে জানা গেছে,বাৎসরিক ছুটির টাকা নগদায়নে চাপ সৃষ্টিসহ উচ্ছৃঙ্খলতার কারনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে শ্রমিকেরা চাকুরিচ্যুতির নোটিশ দেখতে পায়।
এ ব্যাপারে মালিকপক্ষের তাৎক্ষনিক কোন বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।