প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেতে এক সারিতে না‘গঞ্জের আ‘লীগ নেতারা

আজকের নারায়নগঞ্জঃ  আওয়ামীলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণভবনে দলের বর্ধিত সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর ও থানা আওয়ামীলীগ, সাংসদগণ, মেয়র, স্থানীয় আওয়ামীলীগ জনপ্রতিনিধিদের এক মিলনমেলায় রূপ নেয়। নারায়ণগঞ্জে একমঞ্চে একত্রিত হতে কুন্ঠাবোধ করলেও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে জেলার আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ একসাথে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়।

শনিবার (২৩ জুন) সকাল ৮ টা থেকেই বিভিন্ন জেলার আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা গণভবনের বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ করেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারাও সকাল ৮ টা থেকে গণভবনে যাওয়া শুরু করেন। বেলা এগারোটা থেকে শুরু হয় বর্ধিত সভায় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত উপস্থিতি। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা সকলে বর্ধিত সভায় সকল দুরুত্ব কমিয়ে কাছাকাছি অবস্থান নেন।

গণভবনের বর্ধিত সভায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান, সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, আরজু রহমান ভূইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইকবাল পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, দপ্তর সম্পাদক এড. হাবিব আল মুজাহিদ পলু, বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি এমএ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানসহ থানা আওয়ামীলীগ ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দফতর সম্পাদকগণ  অংশগ্রহণ করেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, আমরা জেলা থেকে আওয়ামীলীগের সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নেতৃ আমাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ভিপি বাদল বিদেশে থাকায় তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেন নি।

নেত্রী বলেছেন, প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু প্রার্থী হতে গিয়ে দলকে বদনামে ফেলবে, এটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া হবে না। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কাজগুলোর কথা না বলে কোথায় কার বিরুদ্ধে কী দোষ আছে, সেটা খুঁজে জনগণকে যারা বলবেন তারা কখনো আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাবেন না।

মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, নেত্রী দলকে ঐক্যবদ্ধ করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে তার জন্য কাজ করার কথা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এলাকায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য বলেছেন। মানুষের মন জয় করতে পারাই আগামী নির্বাচনে ভোট পাওয়ার যোগ্যতা বলেছেন নেত্রী। মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা কোন নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, এমনটাই জানালেন গণভবনের বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ করা জেলা আওয়ামীলীগের য্গ্মু সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজ।

তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি সমুন্নত রেখে কাজ করার জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন সভানেত্রী। নির্বাচন যেন স্বচ্ছ হয়, কেউ যেন নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে না পারেন। আমরা ভোট চুরির বদনাম নিতে চাই না। জনগণের মন জয় করে তাদের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে।

বর্ধিত সভায় সভানেত্রীর দিকনির্দেশনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু জানান, আওয়ামীলীগের যে অর্জন তা জনগণের কাছে প্রচার ও নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলেছেন নেত্রী। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন সভানেত্রী।

এ মুহুর্ত্বের করণীয় প্রসঙ্গে সভানেত্রীর বক্তব্য, নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক প্রার্থী কাজ করছে। প্রার্থীদের প্রতিযোগিতার কারণে যাতে কোন ধরণের বিভেদ সৃষ্টি তৈরী না হয়। যার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেন, নেত্রী আমাদের জনগণের দোরগোড়ায় উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে বলেছেন। সেই সাথে বিএনপি’র সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়েও তুলে ধরতে বলেছেন।

এছাড়া বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি, প্রেসিডিয়াম সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দফতর সম্পাদকগণ যোগদান করেছেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন নতুন ভবন পেল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সকালে ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ঢাকার ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ১০ তলা নতুন ভবনটির উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।