শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রোল মডেল- তারানা হালিম

আজকের নারায়নগঞ্জঃ তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, বিএনপির ধ্বংসযজ্ঞের পরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের সামনে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রোল মডেল।

বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বার বার প্রমাণ করেছে, যেকোনো উচ্চাভিলাসী বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাই এবারের বাজেটও বাস্তবায়ন হবে। দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল বলেই বিএনপির আমলে কোনো বাজেট বাস্তবায়িত হয়নি। বিএনপির আমলে সাবমেরিন কনসোর্টিয়ামে ও স্যাটেলাইটে বিনামূল্যে স্লট দিতে চাইলেও তা নেয়নি। এখন অর্থ দিয়ে সেই স্লট নিতে হয়েছে। এজন্য জনগণকে বিএনপির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, গত নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে বাংলাদেশের ৩৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিএনপির এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরও বাংলাদেশ আফগানিস্তান, কঙ্গো, নাইজেরিয়া হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের সামনে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রোল মডেল।

ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের স্বার্থে তিনি সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং মোবাইল অ্যাক্সেসরিসের ওপর ট্যাক্স কমানো আহ্বান জানান তারানা হালিম।

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি দুর্নীতির রাজনীতি। ঘুষ নিয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা ভাগাভাগি করে নিতেন। নিজেদেরকে বিশ্বে টু পার্সেন্ট কমিশনভোগী হিসেবে পরিচিত করেছিলেন। খালেদা জিয়ার পরিবারের দুর্নীতির খতিয়ান এতই বিশাল যে এটা না দেখে মুখস্ত বলা সম্ভব না। জিয়া পরিবারের দুর্নীতির তথ্য আজ বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত। এফবিআইর স্পেশাল এজেন্ট বাংলাদেশে এসে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন, বিএনপির আমলে যা হয়েছে তা হচ্ছে পরিকল্পিত দুর্নীতি। তারেক জিয়াকে আন্তর্জাতিক আদালত কুখ্যাত দুর্নীতিবাজ হিসেবে রায় দিয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, তারেক জিয়া তার ট্যাক্স খতিয়ানে যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছে তাতে তার আয়ের উৎস ‘জুয়া’ বলে উল্লেখ করেছে। আবার তার স্ত্রী ও কন্যার সম্পদের যে পাহাড়, এর উৎস কী, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব সম্পদ তো দেশের সম্পদ লুট ও দুর্নীতি করেই তৈরি। বিশ্বের বিভিন্ন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে এসব দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। তারেক ও তার পরিবারের এসব সম্পদের পাহাড় যা অনেকটাই পাচার হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তারেক জিয়ার মতো একজন দুর্নীতিবাজকে আমরা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।

দীপু মনি বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। কিন্তু তাদের কি মনে নেই যে, তারা ক্ষমতায় এসেছিল বুলেটের মাধ্যমে, হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে। যারা ১ কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়ে নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছে, তাদের মুখে এসব সাজে না। তারা আজিজ মার্কা আজ্ঞাবাহী একটা নির্বাচন কমিশন বানিয়ে প্রায় প্রতিটি আসনে লাখ লাখ ভুয়া ভোটারের ভোট কাস্ট করে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে জিতেছিল। যারা ভোটারবিহীন নির্বাচন করে জনগণের চাপে ১ মাসের মধ্যে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল, তাদের মুখে এসব কথা মানায় না। তারা নির্বাচনের সময় তিন শতাধিক ক্যাডার বাহিনীকে প্রিজাইডিং অফিসার বানিয়েছিল, তা কি তাদের স্মরণ নেই?