আফ্রিকান সিংহদের হুঙ্কারে কাবু পোলিশ ফুটবল

ক্রীড়া ডেস্কঃ গল্পটা ১৬ বছর আগের। ফরাসি তারকা জিদান ছিলেন ফর্মে তুঙ্গে। ২০০২ বিশ্বকাপেও ছিলো হট ফেবারিট তখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।  বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নবাগত দল সেনেগাল। কিন্তু, আসরের প্রথম ম্যাচে পুরো ফুটবল দুনিয়াকে স্তব্ধ করে ফ্রান্সকে হারায় আফ্রিকার দেশটি। তাদের বিজয়ের গল্পের এখানেই শেষ হয়নি। উরুগুয়ের পর সুইডেনকে বধ করে হেরি ক্যামেরা ডিউফদের ফুটবলীয় নৈপুণ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয় জিতে নেয় সেনেগাল। ফিফা থেকে বর্ষসেরা দলের খেতাবও পায়। তারপর থেকেই সেনেগালকে বলা হয় আফ্রিকার ‘অদম্য সিংহ’।

ফুটবল যেমন তাদের উত্থান হয়েছিলো হুহু করে। ঠিক তেমনি পতনও হয়েছে। গেলো ১৬ বছরে অর্থের দৈন্যতায় জীর্ণ দশায় মধ্যে গেছে সেনেগালের ফুটবল। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ফিরেছে সেনেগাল। আর শুরুটাও হয়েছে দুর্দান্ত। পোল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতে নিয়েছে ২-১ গোলে।

বলের দখল আর অন টার্গেট শ্যুটে অবশ্য এগিয়েই ছিলো পোলিশরা। তবে সাদিও মানেদের পাল্টা আক্রমণগুলো ফলার মতো বিঁধেছে পোল্যান্ডের রক্ষণে। ফলটাও পেয়েছে সেনেগাল।

৩৭ মিনিটেই গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন ইদ্রিসা গুইয়ে। যদিও গোলটিকে আত্মঘাতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। কারণ, ইদ্রিসা গুইয়ের দুর্দান্ত শটটির গতিপথ আটকে দিয়েছিলেন থিয়াগো সিওনেক। তার পায়ের সঙ্গে লেগেই মূলত বল চলে যায় পোল্যান্ডের জালে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় সেনেগাল। এই গোলটায় অবশ্য পোল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। তাদের ভুলেই এমবায়ে নিয়াং গোলটি পেয়ে যান। সেনেগালের রক্ষণ থেকে বলটা চলে আসে মিডফিল্ডে। ক্রিচোইয়াক ব্যাক পাস দিয়েছিলেন উঁচু করে। পরিবর্তিত খেলোয়াড় বেডনারেক পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলেন। বল বাঁচাতে অনেকখানি এগিয়ে এসেছিলেন গোলরক্ষক এসচিজনিও। কিন্তু তিনিও ক্লিয়ার করতে পারলেন না। বল ফাঁকি দিয়ে চলে যায় পোল্যান্ডের ডি বক্সে। সেখানে সামনে কেউ নেই। ফাঁকা পোস্ট। দৌড়ে বলে পেছন পেছন এলেন নিয়াং। আলতো শটে জড়িয়ে দিলেন পোল্যান্ডের জালে।

খেলার ৮৬ মিনিটে একটি গোল শোধ করে দেয় পোল্যান্ড। কামিল গ্রোসিকির ফ্রি কিক থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ এক হেড গোল করেন গ্রেগোরিজ ক্রিচোইয়াক।