একগুচ্ছ কবিতা

গোলাম কবির

১। শিরোনামহীন -৮৯

গুপ্তঘাতকের লুকানো শাণিত ছুরি
সব সময় তাড়া করে ফেরে মগজের ভিতরে,
আমি ভয়ে কুঁকড়ে থাকি, আশ্রয় খুঁজে ফিরি নদীর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বো বলে।
কিন্তু মেলে না তা, অতঃপর দৌড়ে যাই পর্বতচূড়ায় লুকাবো বলে
কিন্তু সেখানেও মেলে না ঠাঁই!
ফিরে এলাম আবার তোমারই কাছে,
জীবনের খসে পড়া নক্ষত্রের আলো
মিইয়ে আসে, জেগে থাকে শুধু রাতজাগা পাখিদের ভয়ার্ত আর্তনাদ, ডুবে যায় বাঁশঝাড়ে একাদশীর চাঁদ, বিশাল শূন্যতা গিলে খায় কবিতার পান্ডুলিপি আর মগজকে টুকরো টুকরো করে খায় নেংটি ইঁদুরের দল।
তারপর আবার অন্ধকারে হারিয়ে যাবার ভয় ফিরে ফিরে আসে জীবনের বাঁকে বাঁকে,
এই ভাবে কেটে যায় রাত্রিদিন প্রায়ন্ধকার সময়ের স্রোতে অভিমানি আত্মঘাতী ডলফিনদের মত।

২। শিরোনামহীন -৮৮

স্বপ্নের মেঘ গুলো উড়ে উড়ে যায়
আঁধারের বুক চিরে দূরে, বহু দূরে!
রাতের মেঘনা নদীর ঢেউ এর মধ্যে
জেলে নৌকায় রুপালি ইলিশের
উপচে পড়া ঢল দেখে আনন্দের
ঢল নামে যেমন জেলেদের ক্লান্ত,
ঢুলুঢুলু চোখেও, তোমাকে দেখবো বলে
আমার হৃদয়ও এরকম উল্লাসে নেচে উঠে
বার বার, তুমি আমার অনন্ত নক্ষত্রের
দিনরাত্রির কাব্য, গন্তব্যের শেষ ঠিকানা,
ভালবাসার ময়ুরপঙ্খী নাও ভাসিয়ে যাবো
সে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে তোমার কাছে,
সেই আশাতেই বসে আছি, দিন গুণছি তার।

৩। আমি বিজয় দেখিনি

এদেশে এখনো শিশু শ্রম বন্ধ হয়নি,
এখনো অনাহারে থাকে কৃষকেরা
আর ফড়িয়ারা মজা লুটে,
এখনো ধর্মের নামে বকধার্মিকেরা রাজনীতি করে, এখনো ঘুষ দূর্নীতি চলে অবিরাম,
এখনো মানুষের জন্য চিকিৎসা সহজলভ্য হয়নি
এখনো সবার জন্য বাসস্হানের ব্যবস্থা করা যায়নি,
ধনীরা আরো ধনী আর গরীবেরা আরো গরীব হচ্ছে আর মধ্যবিত্ত তো উধাও হয়ে গেছে কবেই, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা মুক্ত হয়নি স্বদেশ, এদেশে এখনো বাতাস ভারী হয়ে থাকে
ধর্ষিতার আর্তনাদে অথচ ত্রিশ লক্ষ শহীদের
এক নদী রক্তের বিনিময়ে মুক্ত স্বদেশ আমার, তাই তো স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পরও
বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমি বিজয় দেখিনি।