সৌদির রাজভান্ডারের দায়িত্বেও ছিলেন এই মুফতি কাশেমী !

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: নারায়নগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ আসন। এছাড়াও বিভিন্ন কারনে এ অঞ্চলটি আলোচিত-সমালোচিত।

তবে সবচেয়ে আলোচিত এ কারনে, যেখানে শামীম ওসমান-গিয়াসউদ্দিন-শাহ আলমদের মত এমপি- রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীদের কব্জায় বিভিন্ন সেক্টর। স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরাই হবেন বৃহৎ রাজনীতিক দলের প্রার্থী।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ স্বভাবসুলভ ভাবে দলীয় প্রার্থী হিসাবে একেএম শামীম ওসমানের হাতে নৌকা তুলে দিয়েছে।

কিন্তু অনেক নাটকের পর সবাইকে চমকে দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি মনির হোসেন কাশেমীর হাতে।

ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের জনগন কেউ চিনেন না,ধানের শীষ প্রতীকের মালিকানা যাদের সেই জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপির) নেতাকর্মীরা চিনে না। তাই প্রশ্ন উঠেছে, কে এই মুফতি মনির হোসেন কাশেমী ?

খোঁজ নিয়ে যতদুর জানা গেছে,তিনি ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আবদুল বারেক।

বর্তমানে তিনি ঢাকার গুলশান এলাকায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তিনি এক সময় জমিজমার ব্যবসা ছাড়াও দীর্ঘদিন সৌদি আরবে চাকুরী করেছেন। তার দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোটের শরীক একটি দল।

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে ১৯৩ সালে সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি সৌদি রাজপরিবারের ইমাম ও রাজভান্ডারের হিসাব রক্ষনের দায়িত্বও নাকি পালন করেছেন। আর রিয়াদে বসবাসের সমযই তার দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন কাসেমী।

২০০৯ সালে দেশে ফরে এসে ২০১৫ সনে দলের অর্থ সম্পাদক  ও ২০১৮ সনে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পান। তিনি সংগঠনের নারায়নগঞ্জ জেলা শাখারও সভাপতি। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,মুফতি কাশেমীর ধানের শীষের মত প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়াইয়ের পেছনে কি এমন রহস্যপূর্ণ মাজেজা রয়েছে।

তবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে সৌদি কানেকশন আছে কিনা তা জানা যায়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন স্তরে চলছে আলোচনা।

তবে কাশেমী দাবী করেছেন,জোট যোগ্য মনে করেই এখানে নমিনেশন দিয়েছে।আর এখানে উনি নতূন নন, এ উনার সাতপুরুষের বসবাস এখানে। একজন আলেম হিসাবে সবসময় আলেম-ওলামাদের সাথে সম্পর্ক ছিল,আছে। বিএনপির টপ টু বটম নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে তার।

তিনি আরো দাবী করেছেন,ফেয়ার নির্বাচন হলে দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে ধানের শীষ জয়লাভ করবে।

ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী শামীম ওসমান বলেছেন,জঙ্গি মতবাদের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি এখন জঙ্গি সংগঠন হিসেবে রূপ নিচ্ছে ।

বিএনপির উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেছেন, নির্বাচন করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের যদি নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতো তাহলে আমার এলাকায় এতো নেতা থাকতে একজন জঙ্গি মতবাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতেন না। তাদের যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন জনগণ তাদেরকে রুখে দাঁড়াবে।